হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সাতকানিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার চালক ও যাত্রী নিহত, রেললাইন অবরোধ

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

রিকশাচালক আবদুশ শুক্কুর (৪৪) ও যাত্রী আবু তাহের (৪২)। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের সাতকানিয়ার বিওসির মোড় ক্রসিংয়ে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ও যাত্রী নিহত হয়েছেন। আজ রোববার দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গেটম্যান নিয়োগের দাবিতে দুই ঘণ্টা রেললাইন অবরোধ করে কক্সবাজার থেকে আসা চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস আটকে রাখেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন সাতকানিয়া উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মুহুরিপাড়া এলাকার সাহাব মিয়ার ছেলে আবদুশ শুক্কুর (৪৪) এবং কালিয়াইশ ইউনিয়নের মাইঙ্গ্যাপাড়া এলাকার মৃত মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে প্রবাসী আবু তাহের (৪২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিওসির মোড় রেলক্রসিং পার হচ্ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই চালক আবদুশ শুক্কুর ও যাত্রী আবু তাহের নিহত হন।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তাঁরা গাছের ডাল ও গুঁড়ি ফেলে রেললাইন অবরোধ করেন এবং কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে দেন। বেলা দেড়টা থেকে প্রায় চারটা পর্যন্ত আটকে রাখা হয় ট্রেনটি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুর গফুর মুক্তা বলেন, ‘বিওসির মোড় রেলক্রসিং এলাকায় রেলগেট বা গেটম্যান নেই। আশপাশে ঝোপঝাড় থাকায় ট্রেন আসা-যাওয়া খুব একটা দেখা যায় না। এ কারণে ওই এলাকায় বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে। গেটম্যান নিয়োগের দাবিতেই স্থানীয় লোকজন রেললাইন অবরোধ করেছিলেন।’

সাতকানিয়া রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার মঙ ইউ মারমা বলেন, পর্যটক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় একজন অটোরিকশাচালক ও একজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন দুই ঘন্টা রেললাইন অবরোধ করে রেখেছিলেন। রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনগত বিষয় দেখাশোনা করছে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলিম বলেন, গেটম্যান নিয়োগের দাবিতে স্থানীয় লোকজন প্রায় দুই ঘণ্টা রেললাইন অবরোধ করে রাখেন। এতে চট্টগ্রামমুখী একটি ট্রেন আটকে পড়ে। দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়ার পর তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।