হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

ফজরের আজান দিতে মসজিদে ঢুকেই মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

কুমিল্লা ও চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

মুয়াজ্জিন মো. শাহজাহান মিস্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ফজরের নামাজের আজান দেওয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে গিয়েই মৃত্যুবরণ করেছেন মুয়াজ্জিন মো. শাহজাহান মিস্ত্রী। আজ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাগৈগ্রাম পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল ইসলাম বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শাহজাহান মিস্ত্রী একই গ্রামের আর্মি বাড়ির মৃত সুজত আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার ভোরে আজান দেওয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে যান তিনি।

মসজিদে যাওয়ার আগে শাহজাহান মিস্ত্রী হুজুরাখানা থেকে ইমাম মাওলানা নুরুল ইসলামকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। মসজিদে প্রবেশের পর নির্ধারিত সময়ে আজান দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

মসজিদের ভেতরে হঠাৎ পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ইমাম সেখানে যান। পরে মুসল্লি আবদুল ওয়াদুদ, মো. ইয়াছিন, ইসমাইল হোসেন এবং মুয়াজ্জিনের ছেলে হাসান আর্মিকে খবর দেওয়া হয়।

মসজিদে পৌঁছে তাঁরা শাহজাহান মিস্ত্রীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। ওই সময় আবদুল ওয়াদুদ ফজরের আজান দেন।

নামাজ শেষে হাসান আর্মিসহ মুসল্লিরা শাহজাহান মিস্ত্রীর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। জানাজা শেষে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রামের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ মসজিদে যোগদান করেছি বেশি দিন হয়নি। মুয়াজ্জিন শাহজাহান মিস্ত্রী প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার ভোরে আজান দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মসজিদে আসেন। এরপর আমাকে সজাগ করার পর আজান দেওয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে অপেক্ষা করেন। এর কিছুক্ষণ পরই সম্ভবত তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান। পড়ার আওয়াজ শুনে মসজিদে গিয়ে দেখি, তিনি মারা গেছেন।’

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারিছ মাস্টার বলেন, ‘ইমামের মাধ্যমে জানতে পেরে মুয়াজ্জিন শাহজাহান মিস্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছি।’

শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, ‘লোকমারফত জানতে পেরেছি, বাগৈগ্রাম পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন শাহজাহান মিস্ত্রী ফজরের আজান দেওয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থানকালেই ইন্তেকাল করেছেন।’