বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ বয়স জালিয়াতি করে ১৭ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অফিস অর্গানোগ্রামের (প্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো) বাইরে গিয়ে তিনি পদোন্নতিও পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিপিসির কর্মী ও সংশ্লিষ্ট নথির বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৯ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উপব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) পদে প্রার্থীর বয়স চাওয়া হয়েছিল ৩৩ বছর। কিন্তু তখন মোরশেদ হোসাইনের বয়স ৩৬ বছর ২ মাস ২০ দিন ছিল বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয় ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর এক চিঠিতে মোরশেদ হোসাইনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করতে বিপিসিকে বললেও আজ অবধি তা হয়নি।
জানা গেছে, বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ ২০০৯ সালে উপব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) পদে নিয়োগ পান। ২০১৪ সালে ব্যবস্থাপক (অফিসিয়েটিং) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তবে বিপিসির অর্গানোগ্রামে এ ধরনের কোনো পদের অস্তিত্ব নেই। এরপর নিয়মিত ব্যবস্থাপক, উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ও বর্তমানে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ব্যাপারে বিপিসির সচিবালয় শাখার (প্রশাসন শাখা) উপব্যবস্থাপক এস এম জোবায়ের বলেন, ‘মোরশেদ হোসাইনের বয়স জালিয়াতি করে চাকরি করার বিষয়টি আমার জানা নেই। চাকরির বিষয়াদি দাপ্তরিক গোপনীয় বিষয়।’
মোরশেদ হোসাইনের বিষয়ে বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
জানা গেছে, বিপিসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির (এসএওসিএল) নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যাওয়ায় ১ অক্টোবর মোরশেদ হোসাইনকে ১৫ দিনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র বিক্রয় সহকারী ও এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি কায়সার হামিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ২০২১ সালে মোরশেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনাস্থা দিয়েছিলেন। দুজন পরিচালকও তাঁর ব্যাপারে অভিযোগ দিয়েছেন। মোরশেদ হোসাইনের দুর্নীতির বিষয়ে দুদক থেকে তদন্তের জন্য বলা হয়; কিন্তু তা করা হয়নি। ৪ অক্টোবর স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোরশেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ বলেন, ‘আমার নিয়োগ আমি নিজে দিইনি। কর্তৃপক্ষ নিশ্চয় যাচাই-বাছাই করে দিয়েছে। নিয়োগে কোনো অনিয়ম হলে তার দায় তৎকালীন কমিটির।’