চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের রমনা আবাসিক এলাকায় সাংবাদিক এম এ হোসাইনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তাঁর মানিব্যাগ ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ভুক্তভোগী এম এ হোসাইন দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার। এ ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হালিশহর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের কাজে রমনা আবাসিক এলাকার খালের পূর্বপাড়ে যান এম এ হোসাইন। মোটরসাইকেল থেকে নামামাত্র আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ছিনতাইকারীরা তাঁকে পেছন থেকে ঘিরে ধরে। অনৈতিক কাজে এসেছেন দাবি করে তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করে তারা। পিস্তল ও ছুরির ভয় দেখিয়ে তাঁর মানিব্যাগে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর আরও দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর জানাতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। চার দফায় বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৫৬ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ছিনতাইকারীরা তাঁর হাতে জোর করে অনৈতিক উপকরণের প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে ভিডিও ধারণ করে। ঘটনা কাউকে জানালে বা আইনি ব্যবস্থা নিলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের হুমকি দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর গলা চেপে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এম এ হোসাইন।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, সাংবাদিক এম এ হোসাইনকে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হবে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এম এ হোসাইন বলেন, ‘এমন পরিস্থিতির শিকার হব, তা কল্পনাও করিনি। আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর ভিডিও বানিয়ে ব্ল্যাকমেলের চেষ্টা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর আশপাশের লোকজনের সহায়তায় ঘটনায় জড়িতদের নাম শনাক্ত করে হালিশহর থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে এম এ হোসাইন জানান, ওই এলাকায় প্রায়ই এ ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ বলেন, নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা তারই প্রমাণ। তিনি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।