হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চুয়েট অচলাবস্থার ২০ দিন, আন্দোলন কঠোরের ঘোষণা স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলা অচলাবস্থা রোববার ২০ তম দিনে গড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউনের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষক সমিতির পর স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনও আন্দোলন আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে।

এ অবস্থায় চুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। বন্ধ আছে সেমিস্টার মূল্যায়ন ও গবেষণাগারের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সেশনজটের আশঙ্কা বাড়ছে।

শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হয় ২২ সেপ্টেম্বর। এর আগের দিন, ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও আন্দোলনে যোগ দেন।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাইন মিহাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও সকলের স্বার্থে যে দাবিতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি, সেটির গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামিয়ে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

চুয়েট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি বিশেষায়িত বিভাগের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। অন্য একটি প্রতিবেদনে ছয়টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত থাকার তথ্য এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ডও স্থবির হয়ে আছে।

চুয়েট শিক্ষক সমিতি শনিবার, জরুরি সভা করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়। সমিতির দাবি, চুয়েটে কর্মরত প্রকৌশল শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চলছে। সংকটের সুরাহা না হওয়া অবধি এই আন্দোলন আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।’

চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও রোববার জরুরি সভা করে একই ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংগঠনটির সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি জরুরি সভায় বসে।’

এদিকে চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত দেবে, স্থানীয় প্রশাসন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’