হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

পূজার ছুটিতে ফাঁকা চুয়েট, দাবি আদায়ে চলবে শাটডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

দুর্গাপূজার ছুটিতে ফাঁকা হয়ে গেছে চুয়েট ক্যাম্পাস। ছবি: আজকের পত্রিকা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার ছুটি শুরুর আগে আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শেষ কর্মদিবস। ছুটি উপলক্ষে আবাসিক হল ছাড়তে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। আগামী ২৫ অক্টোবর নিয়মিত কর্মদিবস শুরুর কথা থাকলেও উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত সংকটের সমাধান না হলে শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

দুর্গাপূজার ছুটিতে ফাঁকা হয়ে গেছে চুয়েট ক্যাম্পাস। ছবি: আজকের পত্রিকা

উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চুয়েটে শুরু হওয়া আন্দোলন ২৩ দিনে গড়িয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে আন্দোলনে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও যুক্ত হয়ে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন চলছে। ক্লাস, পরীক্ষা ও ল্যাব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘ আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ছয়টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার পরীক্ষা ও ল্যাব কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবি হলো, নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় সাবেক উপাচার্যকে অপসারণের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশে সংকট তৈরি করেছে।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী আহনাব শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণ হলে আন্দোলন শেষ হবে।’

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম নিয়োগের পর প্রথম দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে অনলাইনে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। গত ১২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টায় মাইক্রোবাসে করে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তালা ভেঙে উপাচার্যের কার্যালয়ে বসেন।

উপাচার্যের কার্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরদিন ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেন। উপাচার্যের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ৩০ ঘণ্টার অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উপাচার্যকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। তিনি এখনো সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁদের আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়। উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করাই তাঁদের একমাত্র দাবি। আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা সরকারের কাছে দ্রুত সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।