৩০ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় তাঁকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়।
পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ছাড়েন উপাচার্য। এরপর নগরীর অক্সিজেন এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে এনে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা তাঁর স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো রয়েছে বলে জানান।
প্রশাসনিক ভবনের নিচে উপাচার্যকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী আহনাব শাহরিয়ার অর্ণব ঘোষণা দেন, ‘ভিসিকে আমরা চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো—তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’
এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
পরে পুলিশি নিরাপত্তায় উপাচার্যকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। এ সময় ভিসির সঙ্গে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা সাত থেকে আটজন ছাত্রদলের নেতাও বেরিয়ে আসেন ভিসির কার্যালয় থেকে।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গতকাল সোমবার সকালে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাঁরা ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে প্রশাসনিক ভবনের মূল গেটে তালা লাগিয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এমন পরিস্থিতিতে আজ বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্যকে উদ্ধার করতে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাঁকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’
পরে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে মুক্ত করে নিয়ে যাওয়া হয়।