হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

ইজারা ছাড়াই বাজারের খাস কালেকশনের টাকা তুলছেন বিএনপির সাবেক সভাপতি

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

ইদ্রিছ হায়দার নয়ন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ফকিরনীর হাট বাজারে ইজারা ছাড়াই খাস কালেকশনের নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইদ্রিছ হায়দার নয়নের বিরুদ্ধে। তিনি বড়উঠান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার থেকে তিনি লোকজন নিয়ে প্রকাশ্যে এই টাকা আদায় করছেন।

জুলধা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ইজারাবিহীন ফকিরনীর হাট বাজারের খাস কালেকশন আদায় করে আসছে ভূমি অফিস। আদায় করা অর্থ রশিদের মাধ্যমে সরকারি প্রক্রিয়ায় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

কয়েক দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মোহাম্মদ রাশেদের নির্দেশের পর ভূমি অফিস খাস কালেকশন আদায় বন্ধ রাখে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। এরপর থেকে ইদ্রিছ হায়দার নয়ন বাজার থেকে খাস কালেকশনের টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইদ্রিছ হায়দার নয়নের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘একটু ঝামেলায় আছি, এ বিষয়ে পরে কথা বলব।’ এরপর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

জুলধা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী অরুণ বড়ুয়া বলেন, ‘গত রোববার বাজারে খাস কালেকশনের টাকা আদায় করতে গেলে বিএনপি নেতা ইদ্রিছ হায়দার নয়ন আমাদের অফিসের কর্মচারীকে বারণ করেন। তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে তিনি বাজারের খাস কালেকশন আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এরপরই সার্টিফিকেট সহকারী রাশেদও খাস কালেকশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।’

তবে ইদ্রিছ হায়দার নয়নকে খাস কালেকশন আদায়ের কোনো নির্দেশনা বা দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মোহাম্মদ রাশেদ। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনারা ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেন।’

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে শিখা সিংহ উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও দাপ্তরিক বিভিন্ন কার্যক্রম সার্টিফিকেট সহকারী রাশেদ পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাশেদ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

জানা গেছে, মাসে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইদ্রিছ হায়দার নয়ন সার্টিফিকেট সহকারী মোহাম্মদ রাশেদের কাছ থেকে মৌখিকভাবে বাজারটির দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে উপজেলা প্রশাসন বা ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে তাঁকে এ দায়িত্ব পালনের কোনো লিখিত বৈধ কাগজপত্র দেওয়া হয়নি।

বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজার থেকে আদায় করা অর্থ সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।