হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম: শিশু হত্যার মামলার তদন্তে গতি নেই

• গত সাড়ে চার মাসে প্রাণ হারিয়েছে ছয় শিশু

• পারিবারিক ও দুপক্ষের সংঘাতের মাঝে পড়ে এসব হত্যাকাণ্ড

• মামলার অগ্রগতি ধীরগতি হওয়ায় হতাশা ভুক্তভোগী পরিবার

• শিশুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

সোহেল মারমা, চট্টগ্রাম 

সন্ত্রাসীদের একটি পক্ষ অপর একটি পক্ষের ওপর গুলিবর্ষণের সময় চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় শিশু রেশমী আক্তার। ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে বড়দের বিরোধের জেরে গত সাড়ে চার মাসে ছয় শিশুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক ও দুপক্ষের সংঘাতের মাঝখানে পড়ে এসব শিশু নিহত হয় বলে জানা গেছে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের মামলার অগ্রগতি ধীরগতির হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা রোধে সামাজিক প্রতিরোধ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগসহ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মধ্যেও এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আইনজীবী এ এম জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘একটা মামলার চার্জশিট দিতে লাগে ৩ বছর, আবার ট্রায়াল হতে হতে সাক্ষীরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যাচ্ছে। এতে মামলার আলামত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে আদালতে বিচারের সময় দেখা যায়, রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশন সাক্ষী হাজির করতে পারে নাই, তখন এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা যায় না, পরে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে এসব আসামিরা বেরিয়ে যাচ্ছে।’ এসব রোধে সামাজিক প্রতিরোধ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

৬ শিশু নিহত, গুলিবিদ্ধ ১: গত জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় নানা বিরোধের মধ্যে পড়ে অন্তত ছয় শিশু নিহত হয়। এ সময় একজন গুলিবিদ্ধ হলেও প্রাণে বেঁচে যায়। এসবের প্রতিটি ঘটনায় মামলার পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মূল আসামি গ্রেপ্তার এবং আদালতে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও এখনো সেসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়নি।

আইনজীবী জিয়া হাবীব বলেন, ‘আমি মনে করি, শিশু ধর্ষণ কিংবা শিশু হত্যার মামলাগুলো দ্রুত চার্জশিট, অভিযোগ গঠন, সাক্ষী উপস্থাপনসহ যেসব আরগুমেন্ট আছে সেগুলো তিন মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব। ফেনীতে চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসাছাত্রী হত্যার ঘটনায় মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় এরই মধ্যে তা প্রমাণিত হচ্ছে। আসলে এর জন্য সদিচ্ছা প্রয়োজন।’

গত ৮ এপ্রিল রাতে বাকলিয়া থানার বউবাজার ওসি মিয়া সড়কে দুই বছর বয়সী শিশু আশরাফ বিন সামিরের মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন শিশুর মা শারমিন আক্তারের সঙ্গে তাঁর স্বামী সজীব ও শাশুড়ি নুর বেগমের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সজীব স্ত্রীর কাছ থেকে সামিরকে ছিনিয়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সামিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই থানা এলাকার ময়দার মিলে ৪ এপ্রিল আধিপত্য নিয়ে স্থানীয় আব্দুস সোবহান ও শওকত নামের দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে ১২ বছরের শিশু ফাহিমসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়। ময়দার মিল পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা মো. কালামের ছেলে ফাহিম এখনো শরীরে যন্ত্রণা বইয়ে বেড়াচ্ছে।

বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলায়মান গত রোববার বলেন, পৃথক দুটি মামলায় আসামিরা গ্রেপ্তার আছে। একটি মামলায় তদন্ত শেষ পর্যায়ে, আরেকটিতে আর যারা গ্রেপ্তারের বাইরে আছে, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

১৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া এলাকায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে মেহেরা আক্তার নামের দুই মাস বয়সী শিশুকন্যাকে কোল থেকে কেড়ে নিয়ে আছড়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে ওসমান গণি নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে জমির বিরোধের জেরে তিন বছরের শিশু নূর আবদুল্লাহ খুন হয়। ৩ জানুয়ারি খুলশী লালখান বাজার পানির ট্যাংকি এলাকায় ১২ বছরের শিশু শ্রাবন্ত ঘোষের গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

চট্টগ্রামে সবচেয়ে আলোচিত শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি সেখানে জান্নাতুল নাইমা হীরামনি নামের সাত বছরের এক কন্যাশিশুর গলার শ্বাসনালি কাটা ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে কয়েকজন শ্রমিক। ৩ মার্চ সে মারা যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাবু শেখ নামের একজনকে গ্রেপ্তারের পর জানিয়েছে, শিশুটির বাবার সঙ্গে আসামি বাবু শেখের বিরোধ ছিল। এর জেরে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টা ও পরে শ্বাসনালি কেটে হত্যা করেন বাবু। গ্রেপ্তার বাবু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

সর্বশেষ ৭ মে পূর্ব বিরোধের জেরে সন্ত্রাসীদের একটি পক্ষ অপর একটি পক্ষের ওপর গুলিবর্ষণের সময় চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় রেশমী আক্তার (১১)। এ ঘটনায় করা মামলাটি বায়েজিদ থানায় তদন্তাধীন।

২০২২ সালের মারজান হক বর্ষা (৭) হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ওই বছরের ২৪ অক্টোবর জামালখান লিচুবাগান এলাকায় চিপস কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় বর্ষা। ২৭ অক্টোবর নালা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনো এই মামলার চার্জ গঠন হয়নি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড: বন উজাড়ে নীরব রেল-বন বিভাগ

ঝোপের আড়ালে গর্ত থেকে কান্নার আওয়াজ, পাতা সরিয়ে উদ্ধার হলো নবজাতক

সন্দ্বীপে যুবদল নেতার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম

এসআরবি পরিচয়ে অপহরণ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ইউপি নির্বাচনে তৃণমূলকে প্রাধান্য দেবেন তারেক রহমান: সরোয়ার আলমগীর

নিজ বাসা থেকে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

পটিয়ায় চিনি ছিনতাই: বান্দরবানে উদ্ধার ১৪৪ বস্তা

সীতাকুণ্ডে বাসচাপায় পথচারী নিহত

সিডিপিএল প্রকল্প: পাইপলাইনে মিলছে সুফল, বাধা জনবলসংকট

ফটিকছড়িতে লোকালয় থেকে অজগর উদ্ধার, বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে অবমুক্ত