হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

রাতে থানায় শিশু নিখোঁজের জিডি, সকালে পুকুরে ভেসে উঠল মরদেহ

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

৬ বছরের শিশু হোসাইন। ছবি: সংগৃহীত

বিকেলে বাড়ির পাশে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল ছয় বছরের হোসাইন। ছেলেকে খেলতে দেখে রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মা। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে ফেরেনি সে। এরপর স্বজনদের উদ্বেগ, খোঁজাখুঁজি আর মাইকিং।

ছেলেকে না পেয়ে রাত ৯টার দিকে আনোয়ারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা। রাতভর অপেক্ষার শেষটা হলো এক মর্মান্তিক খবরে। নিখোঁজের প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের পুকুরে ভেসে উঠল ৬ বছর বয়সের হোসাইনের নিথর দেহ।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে হোসাইনের মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

শিশু হোসাইন উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পরুয়াপাড়া এলাকার রমজান আলী হাজীর বাড়ির আব্দুর রহিমের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। বাবা আব্দুর রহিম চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার বিকেলে বাড়ির পাশে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলছিল হোসাইন। ছেলেকে খেলতে দেখে মা ঘরের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে কখন যে হোসাইন নিখোঁজ হয়ে যায়, তা পরিবারের কেউ বুঝতে পারেননি। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।

ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে রাত ৯টার দিকে আনোয়ারা থানায় নিখোঁজের জিডি করেন বাবা আব্দুর রহিম। পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠায় কাটে রাত।

আজ সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে পানি আনতে গিয়ে কয়েকজন নারী শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা মরদেহটি উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আনোয়ারা থানা-পুলিশ।

শিশুটির চাচা মো. জাবেদ বলেন, ‘আমার ভাতিজা গতকাল সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাইনি। পরে তার খোঁজে এলাকায় মাইকিং করা হয়। ভেবেছিলাম, হয়তো কোথাও আছে, খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু সকালে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করতে হলো! এভাবে ওকে হারাতে হবে, কখনো ভাবিনি।’

পুলিশ জানায়, উদ্ধারের সময় শিশুটির মুখ দিয়ে পানি বের হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে পানিতে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, শিশুটি সাঁতার জানত না। ধারণা করা হচ্ছে, অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।