হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি আজ, চট্টগ্রাম বন্দরে বিঘ্ন ঠেকাতে কড়া হুঁশিয়ারি

 আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) জারি করা এক জরুরি চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) কর্মকর্তাদের বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে সিপিএর সব বিভাগীয় প্রধানকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব নিয়ে বন্দর শ্রমিক, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও বন্দর রক্ষা আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধিতা চলার মধ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হলো।

ইতিমধ্যে কয়েকটি শ্রমিক ও বন্দর শ্রমিক সংগঠন চুক্তির বিরোধিতায় বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদও এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) বিদেশি অপারেটরের কাছে দেওয়ার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।

স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সতর্কতা

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বৃহস্পতিবার চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।

জরুরি পরিস্থিতিতে বন্দরের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সব ধরনের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিটি সিপিএর সব সদস্য, বিভাগীয় প্রধান এবং বন্দর চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীকে পাঠানো হয়েছে।

তবে সম্ভাব্য বিঘ্নের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন বা কর্মসূচিকে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। এর মধ্যেই এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন পক্ষের প্রতিবাদ জোরালো হয়েছে।

বন্দর শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অনেকে দেশের অন্যতম ব্যস্ত কনটেইনার টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। এনসিটির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের বড় একটি অংশ পরিচালিত হয়। দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও টার্মিনালটি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবাদ জোরালো হচ্ছে

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা চলতি সপ্তাহে আরও জোরালো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নগরীতে সমাবেশ ও মশাল মিছিল করেছে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশেরও ঘোষণা দিয়েছে।

প্রতিবাদকারীরা এনসিটি বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, এনসিটি একটি কৌশলগত জাতীয় সম্পদ এবং এর নিয়ন্ত্রণ দেশীয় কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকা উচিত।

এনসিটির ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের পর শ্রমিকদের চাকরি ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা।

তবে সরকার বলে আসছে, অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়া হলে বন্দরের দক্ষতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বাড়বে।

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ১৫ বছরের কনসেশন ব্যবস্থায় এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ নির্দেশনার ফলে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে চট্টগ্রাম বন্দর প্রশাসন ও বিভিন্ন বিভাগকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। পণ্য ওঠানামা, জাহাজের কার্যক্রমসহ বন্দরের জরুরি সেবায় যাতে কোনো প্রতিবাদ বা অন্য কোনো কর্মসূচির প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ কেফায়েত হামিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বন্দরের নিরবচ্ছিন্ন ডেলিভারি কার্যক্রম চালু রাখতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’