হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ইয়াবা আত্মসাতের চেষ্টায় ৭ পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানার সিটি গেট পুলিশ চেকপোস্টে দূরপাল্লার বাসে তল্লাশির সময় উদ্ধার মালিকবিহীন ব্যাগ গোপনে সরিয়ে ইয়াবা আত্মসাতের চেষ্টায় সাত পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশের তদন্ত কমিটি। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

অভিযুক্ত সাত পুলিশ সদস্য হলেন উপপরিদর্শক মো. সাজ্জাদ, সহকারী উপপরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন, সহকারী উপপরিদর্শক আরিফুর রহমান, নায়েক প্রণয় জ্যোতি চাকমা এবং কনস্টেবল মেহরাব হোসেন হৃদয়, ফেরদৌস ইমন ও মাহমুদুল হাসান।

গত ৬ আগস্ট দৈনিক আজকের পত্রিকায় ‘ব্যাগে লাখ ইয়াবা, জব্দ তালিকায় ৪০০ পিস’ শিরোনামে ছাপা ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের পর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সিএমপির একাধিক কর্মকর্তা ওয়াহিদুল হক চৌধুরীর তদারকিতে দেড় মাসের বেশি সময় মাঠপর্যায়ে ঘটনাটি তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে দেড় সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে দাখিল করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী আজ সোমবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঘটনাস্থল ও আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সাত পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনার দিন ইয়াবা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বাস থেকে পাওয়া ব্যাগটি গোপনে সরিয়েছিলেন। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

গত ৪ জুন আকবরশাহ থানার অধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিটি গেট পুলিশ চেকপোস্টে কক্সবাজার থেকে আসা সোহাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থামান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশ সদস্যরা বাসটির লাগেজ বক্স থেকে এক যাত্রীর ব্যাগ জব্দ করেন। তাঁরা প্রথমে ব্যাগ উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে পরে ব্যাগটি পুলিশের জিম্মায় নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশ পরে ওই ব্যাগ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করে। জব্দ তালিকা ও সাক্ষীর স্বাক্ষর নিয়েও অসংগতি দেখা দেয়।

অভিযোগ ওঠে, ব্যাগে থাকা আনুমানিক ১ লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাৎ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যাগে কী পরিমাণ ইয়াবা ছিল, তার সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করা যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার পর লম্বা সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ইয়াবার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।