হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের অভিযান, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

গ্রেপ্তার চারজন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি শর্টগান, একটি চাইনিজ পিস্তল, গুলি, টেঁটা, চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক ও চাঁদা আদায়ের তালিকাসংবলিত একটি খাতা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (গতকাল) বিকেলে উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর বাহাদুরঘোনা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় সীতাকুণ্ড থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ত্র উদ্ধার ও চারজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মোরশেদ (৩৩), মো. রাসেল (৩০), মো. বাবু (৩২) ও মো. সাব্বির (৩২)। তাঁদের বাড়ি চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায়। তাঁরা বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকার বিভিন্ন সমাজে বসবাস করছেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। অন্যদিকে মোরশেদ, বাবু ও সাব্বিরের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গল সলিমপুরে আসামিদের অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তাঁর নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার আলীনগর বাহাদুরঘোনায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে অভিযান চালিয়ে একটি শর্টগান, একটি চাইনিজ পিস্তল, নয়টি সীসার বুলেট, ছয়টি কার্তুজ, একটি টেঁটা, চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক ও চাঁদা আদায়ের তালিকাসংবলিত একটি খাতা উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের সংশ্লিষ্টতা ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।