হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডে স্থানীয়দের বাধার মুখে পণ্ড রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযান

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

স্থানীয়দের বাধার মুখে স্থগিত উচ্ছেদ অভিযান। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। কুমিরা ইউনিয়নের জোড়ামতল এলাকায় রেলওয়ের জমিতে তিন দশকের বেশি সময় ধরে বসবাস করা তিন শতাধিক পরিবারের হাজারো মানুষের বাধায় আজ বুধবার দুপুরে অভিযান স্থগিত করে ফিরে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উচ্ছেদকারী দলের সদস্যরা। বাসিন্দাদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, স্থানীয়দের বাধায় অভিযান বন্ধ হলেও বসবাসরত ব্যক্তিদের এক মাসের মধ্যে নিজ দায়িত্বে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জোড়ামতল কেওয়াইসিআর-সংলগ্ন রেলওয়ের জমিতে তিন দশকের বেশি সময় ধরে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান চালাতে আসায় পরিবার-পরিজন নিয়ে রাস্তায় নেমে অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতিবাদ করেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেলওয়ের সম্পত্তি বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়া বন্ধ থাকা সত্ত্বেও একটি চক্র সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদ করে জায়গাটি স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।

সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর চৌধুরী জানান, বিক্ষোভের একপর্যায়ে বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দা ও রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়। আলোচনার পর রেলওয়ের জায়গায় গড়ে ওঠা স্থাপনা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে বাসিন্দাদের এক মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে জানান নুর উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর চৌধুরী।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান অভিযান স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চলতি মাসের ৭ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার অবৈধ দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে কুমিরা স্টেশন এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ২২/৩ থেকে ২২/৫ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী পশ্চিম পাশে পুরোনো রেলওয়ে সেতু ইয়ার্ডে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা টিনশেড ও ঝুপড়িঘর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মো. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়রা স্থাপনা না সরানোয় আজ দুপুরে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে সেখানে যাওয়া হয়। বাসিন্দাদের প্রতিবাদ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের অনুরোধে অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে রেলের জায়গায় বসবাসরত ব্যক্তিদের সব স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’