বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক স্বার্থে এবং ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে সমাজের ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জের জেএমসেন হল পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে জঙ্গি কে, এ নিয়ে অতীতে কখনো কোনো কথা ওঠেনি, কেউ প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু গত ১৭ বছরে হঠাৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটি করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, সমাজের দীর্ঘদিনের বন্ধন ভেঙে দিতে রাজনৈতিক স্বার্থে, ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে, খুব পরিকল্পিতভাবে এগুলো চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এ ক্ষেত্রে দেশীয় একটি শক্তি ও তাদের আন্তর্জাতিক সমর্থকেরা যুক্ত ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, অতীতের শাসকেরা, বিশেষ করে সাম্প্রতিক শাসনামলে, বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে তুলে ধরার এবং দলটি ক্ষমতায় এলে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে—এমন প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করেছেন। অথচ বিএনপি আগেও রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, ছাত্রসমাজ, তরুণ ও জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের পর নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতায় বসায়। এরপর দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সহিষ্ণুতার চর্চা দেখছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের উৎসব নির্বিঘ্নে, নির্ভয়ে ও নিরাপত্তার মধ্যে পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে।
রিজভী বলেন, ফ্যাসিজমকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে এক ধরণের হাইপার প্রপাগান্ডা করার দরকার, অতি প্রচার করা দরকার, মানুষের মাঝে হিংসা পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরি করা দরকার, যাতে মানুষের মধ্যে একটি বিশ্বাস তৈরি হয়। তবে মিথ্যাকে কখনো বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা যায় না।
দুর্গাপূজার সর্বজনীনতা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রতিবছর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করেন। এই উৎসবের আনন্দ অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। যুগ যুগ ধরে এ সর্বজনীনতা বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তবে এই ঐক্য ও সম্প্রীতিতে বিভাজন সৃষ্টির নানা চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।