চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটেনি। বন্ধ রয়েছে ক্লাস ও পরীক্ষা। এ অবস্থায় অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা করার পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম একপ্রকার লাপাত্তা। তাঁর দুটি মুঠোফোন নম্বরে কয়েকবার ফোন করা হলেও সাড়া মেলেনি। তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসেও নেই বলে জানা গেছে।
চুয়েটে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে ঘিরে বিরোধ থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত।
শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচিতে গত ২৬ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, পরীক্ষা ও পরবর্তী শিক্ষাপঞ্জি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
১২ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে তাঁর কার্যালয়ে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় পরে তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনা হয়। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে উপাচার্য ১৫ অক্টোবর সার্কিট হাউসে ফিরে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। পরদিন ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় তাঁর সভাপতিত্বে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা হয়। সভায় শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা এবং অচলাবস্থা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
চুয়েটের সিন্ডিকেটে উপাচার্যসহ সদস্যপদ ১৭টি। সহ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের দুটি পদ শূন্য থাকায় কার্যকর সদস্য ছিলেন ১৫ জন। সভায় উপাচার্যসহ ছয়জন অংশ নেন। অর্থাৎ ১৫ সদস্যের মধ্যে ৯ জন বা ৬০ শতাংশ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান সভায় অংশ নেন। তিনি জানান, সভায় চুয়েটের কোনো সিন্ডিকেট সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মো. সেকান্দার চৌধুরী, সিন্ডিকেটের একমাত্র শিক্ষক সদস্য, সভায় উপস্থিত ছিলেন না। কম উপস্থিতির কারণে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বিভিন্ন মহলের প্রশ্নের মুখে পড়েন।
এদিকে দুর্গাপূজার ছুটিকে সামনে রেখে আবাসিক হল ছেড়ে বাড়ি ফিরেছেন অনেক শিক্ষার্থী। ফাঁকা হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। ২৫ অক্টোবর থেকে কর্মদিবস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সংকটের সমাধান না হলে সেদিন শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান আন্দোলনরত চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন।
মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরাও আন্দোলনে আছি। যাঁর দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভ ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে, এমন একজনকে আমরা উপাচার্য হিসেবে চাই।’