চট্টগ্রামে বিরোধপূর্ণ একটি জায়গা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার মামলায় সৌদি আরবে থাকা এক ব্যক্তিকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে তাঁর বিরুদ্ধে ঘটনার সময় দেশে উপস্থিত থেকে অন্য আসামিদের সঙ্গে মিলে জায়গা দখলের চেষ্টার কথা বলা হলেও, ওই ব্যক্তির পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঘটনার অন্তত ছয় মাস আগ থেকেই তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
ঘটনাটি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি নন-এফআইআর মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে। তদন্ত শেষে গত ২৬ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বায়েজিদ বোস্তামী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. জাহিদুল ইসলাম। পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা সেই সমন বায়েজিদ বোস্তামী থানায় পৌঁছেছে।
অভিযোগপত্রে আসামি করা ওই ব্যক্তি সৌদি আরবপ্রবাসী মো. শামসুদ্দিন বাদল। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার চৌধুরীনগর এলাকার বাসিন্দা।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট মো. আবুল সৈয়দ নামের এক ব্যক্তি শামসুদ্দিন বাদলসহ চারজনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে একটি মিছ মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ১ আগস্ট ও পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বাদীর ক্রয় করা ও ভোগ দখলীয় সম্পত্তিতে গিয়ে সীমানাপ্রাচীর ও ঘর নির্মাণের মাধ্যমে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন আসামিরা।
আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন এএসআই মো. জাহিদুল ইসলাম। অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, তফসিলভুক্ত সম্পত্তির ভোগদখল নিয়ে বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জেরে বাদীর করা একটি নালিশি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় আদালত দুই পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বিবাদীরা রাতের অন্ধকারে নালিশি ভূমিতে গিয়ে নতুন রাস্তা, সীমানাপ্রাচীর ও টিনের ঘর নির্মাণ করেন। পরে খবর পেয়ে বাদীপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে বিবাদীরা তাঁদের মারধরের জন্য উদ্যত হন। এসব ঘটনায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারার অপরাধ সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
তবে অভিযোগপত্রে আসামি শামসুদ্দিন বাদল ঘটনার সময় দেশে ছিলেন না বলে জানা গেছে। তাঁর পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঘটনার অন্তত ছয় মাস আগে থেকেই তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই মো. জাহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর আমি সব বিবাদীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি। এর মধ্যে শুধু একজন বিবাদীর সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। বাকিরা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।’
শামসুদ্দিন বাদল ঘটনার সময় বিদেশে ছিলেন—এমন তথ্য থাকার পরও তাঁকে অভিযোগপত্রে আসামি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি যদি ঘটনার সময় বিদেশে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে আদালত চাইলে অভিযোগপত্র থেকে তাঁর নাম বাদ দিতে পারবেন।’
প্রবাসী শামসুদ্দিন বাদল শনিবার মোবাইল ফোনে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছি। এর মধ্যে আমার বিরুদ্ধে কে কেন মামলা দিল, সেটা তারাই ভালো জানেন।’
শামসুদ্দিন বাদল দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তা বাদীপক্ষের কাছ থেকে প্রভাবিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অসত্য ও অসংলগ্ন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।