হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

ঋণ নিয়ে আগাম সবজি চাষ, পাহাড়ি ঢলে ফসল হারালেন ফটিকছড়ির কৃষকেরা

ইউসুফ আরফাত, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

পাহাড়ি ঢলে নষ্ট হলো কৃষকের একশ হেক্টর জমির ফসল। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাঞ্চননগরের মানিকপুর থেকে পাইন্দং ইউনিয়নের বেড়াজালী পর্যন্ত প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগাম শীতকালীন সবজি ও বিক্রয় উপযোগী ফসল নষ্ট হওয়ায় কয়েক শ কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিন কানি জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেছিলেন কাঞ্চননগরের কৃষক মো. রফিক। ফসল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশা ছিল তাঁর। মঙ্গলবার ও বুধবারের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ধুরুং খালের চরে গড়ে তোলা তাঁর তিন কানি কৃষিজমি ভেঙে ও তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে পুরো আবাদ।

মো. রফিক জানান, এতে তাঁর প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ধুরুং খালের চরে প্রায় আড়াই কানি জমিতে শীতকালীন আগাম সবজি চাষ করেছিলেন কৃষক মোখবুল আহমেদ। পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাঁর আবাদি জমিও বিলীন হয়ে গেছে। এতে তিনিও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষক ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কোথাও আগাম সবজি ও বিক্রয় উপযোগী ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। আবার কোথাও জমিতে ২ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত বালি জমেছে।

কৃষক শঙ্কর দাস, আবু তাহের ও মো. হাসেম বলেন, আগাম সবজি চাষে তাঁরা বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। ভালো লাভের আশায় বাড়তি টাকা দিয়েও জমি লিজ নিয়েছিলেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন একদিকে ঋণের কিস্তি, অন্যদিকে লিজের টাকা পরিশোধ—দুই দিক থেকেই তাঁরা চাপে পড়েছেন।

পাহাড়ি ঢলে নষ্ট হলো কৃষকের একশ হেক্টর জমির ফসল। ছবি: আজকের পত্রিকা

কৃষকদের ভাষ্য, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা পাওয়া গেলে ক্ষতি কাটিয়ে আবার চাষাবাদে ফিরতে পারবেন তাঁরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ফটিকছড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল কাঞ্চননগর। এ অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন স্থানে সুপরিচিত। গত দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাঞ্চননগরের মানিকপুর থেকে পাইন্দংয়ের বেড়াজালী পর্যন্ত প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবু সালেক বলেন, ‘কোথাও কোথাও আগাম সবজি ও বিক্রয় উপযোগী ফসল পুরোপুরি বালির নিচে চাপা পড়ে গেছে। অনেক জমিতে ২ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত বালি জমে ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রাথমিক হিসাবে এ অঞ্চলে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘ফটিকছড়ির কৃষকেরা একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গত দুই দিনের পাহাড়ি ঢলে কাঞ্চননগর এলাকার কয়েক শ কৃষকের আগাম সবজি চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’