শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী তানিন মেহেদী। চার বছর ক্যানসারের সাথে লড়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তানিনের খালাতো ভাই মনির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তানিন। এ পর্যন্ত তিন দফা পায়ে, বুকে ও ফুসফুসে মিলে তাঁর মোট আট বার অপারেশন হয়। দেশে ও দেশের বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন তিনি। তানিনের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলায়।
২০১৬ সালে তানিন মেহেদীর হাঁটুতে প্রথম টিউমার হয়। তখন অপারেশনও করা হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে সেই টিউমার আবার দেখা দেয়। তখনই পরীক্ষায় তার শরীরে ক্যানসারের জীবাণু পাওয়া যায়।
তানিনের চিকিৎসার জন্য তাঁর বিভাগ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দেশের নানা প্রান্ত থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ভারতে নেন। মুম্বাইয়ের টাটা হাসপাতালে সার্জারি, প্লাস্টিক সার্জারি, রেডিওথেরাপিসহ প্রায় তিন মাস চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন তানিন।
তবে হাঁটুর অপারেশনের কারণে অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হতো। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা, সংগ্রামের পর দুঃখ ভুলে নতুন উদ্যম নিয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন তানিন।
তানিনের শরীরে আবারও ক্যানসার ধরা পড়ে। তবে হাঁটুর ক্যানসার এবার চলে আসে ফুসফুসে। আবার নতুন করে শুরু করতে হয় চিকিৎসা। এরপর চিকিৎসা চললেও দিন দিন তাঁর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অবশেষে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন।
এক ফেসবুক লাইভে তানিনের আত্মার মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাজী আনিছ। এ পর্যন্ত যাঁরা তানিনের চিকিৎসায় অর্থ, শ্রম দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই শিক্ষক। একই সঙ্গে তানিনকে বিভাগ সব সময় মনে রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।