যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কম্পিটিশন ২০২৬’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম চুয়েট সি’। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উপাচার্যের নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই এ সাফল্য অর্জন করেছে দলটি।
প্রতিযোগিতায় সামগ্রিক বিভাগে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে চুয়েটের দলটি। একই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আরেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) দলও দুটি বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। দুই বাংলাদেশি দল মিলে জিতেছে মোট চারটি পুরস্কার।
আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউটের (এসিআই) আয়োজনে গত ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচিত ৪০টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ আয়োজনে শীর্ষস্থান অর্জন করে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা।
প্রতিযোগিতায় চুয়েটের প্রতিনিধিত্ব করেন খন্দকার ফাহাদ আলম, স্বরূপ চন্দ্র মোদক, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও সুমাইয়া বিনতে মান্নান। দলটির উপদেষ্টা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার-চুয়েটের অনুষদ উপদেষ্টা ড. জি এম সাদিকুল ইসলাম।
অন্যদিকে, আইইউটির দলের সদস্যরা হলেন আরিনা তাহরিনা আমিন, রাজিত মুহাম্মদ চৌধুরী, জাসিয়া জুবায়ের, লামিয়া তাসসুম, রাগীব শাহরিয়ার, মো. হুমায়েদ তাহসিন হক, মো. মাহাদী হাসান নিলয় ও মো. জুবায়ের আনজুম। দলটির পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এসিআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক উদ্দিন। আইইউটির দলটি পরিবেশগত নকশা বিভাগ এবং ‘এস্থেটিকস ইন কংক্রিট’ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।
এ সাফল্যের বিষয়ে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য স্বরূপ চন্দ্র মোদক বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা যে অনেক কিছু করতে সক্ষম, তা এখানে এসে নতুন করে উপলব্ধি করেছি। তবে সব সময় আমরা যথেষ্ট সুযোগ পাই না।’
দলটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার-চুয়েট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ছয়টি পুরস্কার অর্জন করেছে। তবে সেগুলোর সবই ছিল অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতায়।
তিনি জানান, গত বছর মালয়েশিয়ায় দলটি চতুর্থ স্থান অর্জন করে। সেটিই ছিল সশরীরে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার প্রথম অভিজ্ঞতা। যুক্তরাষ্ট্রে সশরীরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ভালো ফল অর্জন করা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন নিয়েই দলটি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল। এখন তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এ অর্জন শুধু দলটির নয়, চুয়েট ও পুরো বাংলাদেশের জন্য গৌরবের।
প্রতিযোগিতায় মর্টারের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতাকে। মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ বরাদ্দ ছিল প্রবাহক্ষমতার জন্য এবং ২০ শতাংশ স্থিতিশীলতার জন্য। এ ছাড়া কার্বন নিঃসরণের পরিমাণের জন্য ১০ শতাংশ, অর্থনৈতিক সাশ্রয়িতার জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবেদনের মানের জন্য বাকি ১৫ শতাংশ নম্বর নির্ধারিত ছিল।
আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) কংক্রিট নির্মাণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানদণ্ড, কোড এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রণয়ন ও প্রচারে কাজ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রকৌশলী, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা এ সংস্থাটি কংক্রিট প্রযুক্তির উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমের আয়োজন করে।
এদিকে, উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে আন্দোলন চলছে। নিয়োগের ৫৬ দিনের মাথায় পদচ্যুত অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত হন। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়টির অচলাবস্থা এখনো কাটেনি।