চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ১২ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্তের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরোনো আসামির বিরুদ্ধে মামলার বাদী ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় বাদী মোহাম্মদ রুবেল (৩৮) এবং তাঁর বাবা তামিজ আহমদ (৬৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আজ বুধবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের হেটিখাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৮ জুলাই রাতে চাচার দোকানের সামনে এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় প্রতিবাদ করেন তাঁর চাচা মোহাম্মদ রুবেল। এ ঘটনার জেরে রুবেলের দোকানে ভাঙচুর এবং পরদিন কিশোরীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই হামলায় নারী-পুরুষসহ পাঁচজন আহত হন।
পুলিশ ওই ঘটনায় এলাকার রোকনকে (২৫) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে রোকনসহ অভিযুক্তরা মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধমকি দেন।
মোহাম্মদ রুবেলের পরিবারের দাবি, মামলা তুলে না নেওয়ায় আজ বিকেলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে রুবেলকে কুপিয়ে আহত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপস্থিতিতেই আবার হামলা চালানো হয়।
আহত তামিজ আহমদ বলেন, ‘বিকেলে শিবলু, রোকনসহ একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। এ সময় আমরা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ আসে। অভিযুক্তরা পুলিশের সামনে আমার ওপর হামলা করে পালিয়ে যায়।’
মোহাম্মদ রুবেলের বড় ভাই মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, ‘অভিযুক্তরা জেল থেকে বেরিয়ে ইভটিজিংয়ের মামলা তুলে নিতে বারবার চাপ সৃষ্টিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় তারা আমার পরিবারের ওপর দুই দফায় হামলা করে। এতে আমার ভাই ও বাবা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় আরেকটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ওয়ালি উল্লাহ বলেন, গুরুতর আহত দুজনকে হাসপাতালে আনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, ‘মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ হয়নি।’