চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্ত্রী চন্দনা রানী শীল হত্যা মামলায় স্বামী শিমুল শীল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধু নজরুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকেই শিমুল, নজরুল ও ইলিয়াস হোসেন মিলে চন্দনাকে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিমুল, তাঁর ভাই পীযূষ শীল, নজরুল ও ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত হোসেনের আদালতে জবানবন্দি দেন শিমুল শীল।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শিমুল জানান, বন্ধু নজরুল ইসলামের সঙ্গে স্ত্রী চন্দনার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে নজরুলের উপস্থিতিতে এ বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়।
জবানবন্দি অনুযায়ী, ঝগড়ার একপর্যায়ে চন্দনা মামলা করার হুমকি দিলে শিমুল তাঁর বন্ধু নজরুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেনকে নিয়ে চন্দনাকে হত্যা করেন। পরে চন্দনার মরদেহ টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন জমির আইলে ফেলে রাখা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে অভিযান চালিয়ে শিমুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শিমুলের জবানবন্দির ভিত্তিতে শনিবার রাতে ভাটিয়ারী ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মামলায় শিমুলের ভাই পীযূষ শীলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, রোববার সকালে গ্রেপ্তার তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে শিমুলের সঙ্গে চন্দনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে চন্দনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঘটনার এক দিন আগেও নির্যাতনের শিকার হয়ে চন্দনা বাবার বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। পরে তাঁর স্বামী তাঁকে আবার ডেকে নিয়ে যান। এর এক দিন পরই পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর পান।
ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রথমে শিমুল শীল ও তাঁর ভাই পীযূষ শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শিমুলের জবানবন্দি অনুযায়ী নজরুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ও ইলিয়াস হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
গত শুক্রবার সকালে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের জমির আইল থেকে চন্দনা রানী শীলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের দুই হাত সামনের দিকে কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল।
চন্দনা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার তেজেন্দ্র দাস ও আলো রানী দাসের মেয়ে।
পজিশন: ৬
মাহবুবা: ২০১৩
মেটা:
ট্যাগ: , চন্দনা রানী শীল হত্যা, শিমুল শীল, নজরুল ইসলাম, ইলিয়াস হোসেন, যৌতুক , টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়
ক্যাটা: চট্টগ্রাম/ সারা দেশ
ছবি: প্রতীকী