চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর হয়ে তিন ঘণ্টায় ভারতে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে বারইয়ারহাট-মিরসরাই, হেঁয়াকো-ফটিকছড়ি ও রামগড়-খাগড়াছড়ি সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প শুরু হয়েছিল। ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প পেয়েছিল ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অশোকা বিল্ডকন লিমিটেড। কিন্তু দুই দফায় মেয়াদ বাড়ার পরও কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ।
৩ সেপ্টেম্বর সরেজমিন বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতাভুক্ত কোথাও কাজ করতে দেখা যায়নি। অনেক নির্মাণাধীন কালভার্ট, সেতুর জায়গায় লোহার রডগুলোতে মরিচা ধরে লতাপাতায় ভরে গেছে। নির্মাণাধীন সড়কটির অনেক জায়গায় খানাখন্দ হয়ে চলাচল কষ্ট হয়ে পড়েছে। তবে ফটিকছড়ি উপজেলার বালুটিলা এলাকায় কয়েকজন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায় এবং সড়ক তৈরিতে পাহাড়ের লাল মাটি ব্যবহার করতে দেখা যায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর প্রায় ১০ মাস কাজ বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালে ফের প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ শুরু হয়। কিন্তু এক বছরে কাজের অগ্রগতি হয় মাত্র ৫ শতাংশ।
প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কমে যাচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ ও বন বিভাগের সঙ্গে কিছু সমস্যা ছিল, তা-ও সমাধান হয়েছে। ফের পুরোদমে কাজ শুরু হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। সেটা বর্তমানে কেটে গেছে। আমরা ৩৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২৩ কিলোমিটার সড়ক ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দিতে পেরেছি। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।’
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৩৮ কিলোমিটার সড়কটি ১৮ ফুট প্রস্থ থেকে ৩৮ ফুট করার কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে। দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পের ঠিকাদার ভারতীয় অশোকা বিল্ডকন লিমিটেড। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তবে কাজ হয়েছে অর্ধেক।
চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৫০ শতাংশ।
বর্তমান মেয়াদের মধ্যে কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে আশা করছেন প্রকল্প পরিচালক। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা বলে জানান তিনি।
প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর দিয়ে তিন ঘণ্টায় পণ্য যাবে ভারতে। এটি ভারত সরকারের এলওসি-৩ (লাইন অব ক্রেডিট) এবং বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল দিল্লিতে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ৫১৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। আর ৫৯৪ কোটি ৭ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে ভারত সরকার। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৪৯ দশমিক ২০ মিটারের ৯টি সেতু ও ১০৮ মিটারের ২৩টি কালভার্ট এবং ৩৮ ফুট প্রস্থের ৩৮ কিলোমিটার সড়ক। এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণের ব্যয় রয়েছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, কাজ শেষ হলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক ব্যবহার করে রামগড় স্থলবন্দর দিয়ে সহজে ভারতে পণ্য রপ্তানি করা যাবে। মিরসরাইয়ের অর্থনৈতিক শিল্পনগরের সঙ্গে যোগাযোগও সহজ হবে। এতে সময় ও পরিবহনব্যয় সাশ্রয় হবে। আমদানি-রপ্তানিতে গতি আসবে।
চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফায় বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কাজের লালমাটি ব্যবহার প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান কাজের মান সর্বোচ্চ বজায় রাখা হবে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
প্রকল্পের কাজ বন্ধ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অশোকা বিল্ডকন লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার সন্দীপ দের মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।