চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের যোগদান ঠেকাতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতভর ক্যাম্পাসে পাহারা দেওয়ার পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিভিন্ন দেয়ালে প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকেন তারা। দুপুরে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে বিক্ষোভও করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
নতুন উপাচার্যের যোগদান প্রত্যাখ্যান এবং সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে পঞ্চম দিনের মতো শাটডাউন ও আন্দোলন চলছে।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ও একাডেমিক ভবনের দেয়ালে প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকেন শিক্ষার্থীরা। গ্রাফিতির মাধ্যমে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।
এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চলমান আন্দোলনে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের তালা খুলে তাকে বরণ করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ক্যাম্পাসে বড় একটি বিক্ষোভ মিছিলও করেন তারা। আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি ও পরবর্তী কর্মসূচি জানাতে বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী দেবজিত দাশগুপ্ত বলেন, ‘সায়েম স্যারকে পুনরায় উপাচার্য পদে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবি ও আন্দোলন চলবে।’
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই চুয়েটে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা লাগাতার শাটডাউন কর্মসূচিতে যান।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আমরা নতুন ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না।’