দীর্ঘ চার মাস আটকে থাকার পর বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টার দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক। তিনি জানান, বর্তমানে জাহাজটি জ্বালানি (বাংকারিং) নেওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এমভি বাংলার জয়যাত্রা এখন পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি ক্রু সদস্য নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।
জানা যায়, ভারত থেকে পণ্য পরিবহন শেষে গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জাহাজটি কার্যত পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে। ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাসের পর কুয়েতে যাওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশে যাত্রার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয়। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি সেখানে আটকে যায়।
পরবর্তী সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিএসসি জাহাজটির নিরাপদ গমন নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করে। পরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলে ৮ এপ্রিল রাস আল খায়ের বন্দর থেকে কেপটাউনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। কিন্তু ১০ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকালে ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে এবং ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
সর্বশেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে সোমবার দিবাগত রাতে এমভি বাংলার জয়যাত্রা সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।
এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় চার মাসের অচলাবস্থার অবসান ঘটল এবং স্বস্তি ফিরে পেলেন জাহাজটির ক্রু ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।