হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের শাটডাউন, চলছে গণস্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে চবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব দেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি চলছে। আজ বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক ভেতর থেকে বন্ধ রেখে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার চুয়েটে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি। প্রশাসনিক ভবনে তালা থাকায় বন্ধ রয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রমও। আগের উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে কর্মসূচি পালন করছেন।

গত সোমবার রাত থেকে শিক্ষার্থীরা এই দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন পালনের পাশাপাশি দুপুরে উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করে শিক্ষক সমিতি।

গতকাল শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি তাঁরা জানতে পারেন।

একই প্রজ্ঞাপনে ২৭ জুলাই দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাঁরা সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আগের উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রজ্ঞাপনে উপাচার্য পরিবর্তনের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, তাঁদের সমস্যা শোনা এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে আস্থা অর্জন করেছিলেন।

নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। রাত ১১টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে নারী শিক্ষার্থীরাও মিছিলে যোগ দেন।

পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। তালার সঙ্গে একটি সাদা কাগজে লেখা হয়, ‘এই তালা শুধু সায়েম স্যার খুলতে পারবে।’

গতকাল শিক্ষার্থীরা চুয়েটে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের উপাচার্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যারকে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি একজন যোগ্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য। আমরা তাঁর পুনর্বহাল চাই। তাঁর পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান হাসনাত আদিব বলেন, ‘গত ২১ সেপ্টেম্বর বিনা নোটিশে আমাদের আবু সাদাত সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে আমরা সোমবার রাতেই বিক্ষোভ মিছিল করি। একই দাবিতে চুয়েটে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি চলছে।’

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসেনি। তাই কোনো একাডেমিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়নি।’