হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চুয়েটে ১৫ দিনের অচলাবস্থা, আন্দোলনে চার পক্ষ এককাতারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

ভিসি পুনর্বহালের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে চুয়েট শিক্ষার্থীদের সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অচলাবস্থা ১৫ দিনে গড়িয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

অচলাবস্থার কারণে অন্তত ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। নতুন পরীক্ষার সময়সূচিও দেওয়া হয়নি। ক্লাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে। অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে সেশনজটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১৪ দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চুয়েট ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক থাকলেও আজ চট্টগ্রাম নগরের চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তাঁরা। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯৯ শতাংশই যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন।

মানববন্ধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ আদর্শ সামনে রেখে নতুন ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে যে নবজাগরণের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, চুয়েটের শিক্ষার্থীরা সেই দেশেরই তরুণ প্রজন্ম। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের যৌক্তিক দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল। চুয়েটের প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর যৌক্তিক দাবিও তিনি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন বলে তাঁদের বিশ্বাস।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে সামনে এসেছে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের অভিভাবক। একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি যেমন আপনার সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তেমনি দেশের হাজারো শিক্ষার্থীকেও আপনার সন্তানের মতো বিবেচনা করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন থেকে শুরু হয় কমপ্লিট শাটডাউন।

ভিসি পুনর্বহালের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে চুয়েট শিক্ষার্থীদের সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

পরবর্তী সময়ে লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল, মুখোশ মিছিল, চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ, অবস্থান ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ৫ অক্টোবর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনে সংহতি জানান।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাইন মিহাদ বলেন, ‘আজকে আমাদের আন্দোলনের ১৫তম দিন। আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখতে চাই না। আমাদের শিক্ষাজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যে দাবিতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি, সেটির গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘১৫ দিন ধরে ক্যাম্পাস অচল। এতে আমাদের পরীক্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে, একাডেমিক ক্যালেন্ডারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সমাধান হলে আমরা সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাব। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসুক এবং চুয়েটে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসুক।’

বর্তমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও যুক্ত হয়েছেন। শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সদস্যরা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও আন্দোলনের কারণে ক্যাম্পাসে তাঁর সরাসরি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’