হোম > সারা দেশ > চাঁপাইনবাবগঞ্জ

জনবলসংকটে ধুঁকছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর

আব্দুল বাশির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাণিসম্পদ বিভাগের জেলা ও পাঁচ উপজেলা দপ্তর জনবলসংকটে ধুঁকছে। ছয়টি দপ্তরে মোট ৬৮টি পদের ৩৮টিই শূন্য। এ কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং পশুচিকিৎসা, টিকাদান ও খামারিদের পরামর্শ দেওয়ার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ১৩টি পদের বিপরীতে সাতটি এবং পাঁচ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ৫৫টি পদের বিপরীতে ৩১টি শূন্য। কোনো পদ ছয় মাস, কোনোটি এক বছর আবার কোনো কোনো পদ প্রায় তিন বছর ধরে শূন্য রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর, নাচোল, ভোলাহাট ও শিবগঞ্জ—এই পাঁচ উপজেলায় ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (ভিএফএ) পদে কোনো লোকবল নেই। এ ছাড়া নাচোলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) ও ভেটেরিনারি সার্জন (ভিএস) পদেও কোনো কর্মকর্তা নেই। অন্যদিকে সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় কম্পাউন্ডার পদ শূন্য রয়েছে। অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদেও শিবগঞ্জ, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় কোনো কর্মচারী নেই। ভোলাহাট উপজেলায় ড্রেসার এবং সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর উপজেলায় অফিস সহায়ক পদও শূন্য রয়েছে।

গোমস্তাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘আমার উপজেলায় ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ থাকলেও কাগজ-কলমে ছয়জন কর্মরত। এর মধ্যে বর্তমানে অফিসে আছে মাত্র তিনজন। বাকি দুজন ডেপুটেশনে এবং একজন তিন বছরের প্রশিক্ষণে রয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, জনবলসংকটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম, নতুন খামার নিবন্ধন, বন্ধ খামারের তালিকা তৈরি, প্রাণীর চিকিৎসাসেবা, উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক সভা যথাযথভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ছয়জন কর্মকর্তার মধ্যে একজন প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত। আরেকজন অসুস্থতার কারণে নিয়মিত অফিস করতে পারেন না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুনজের আলম বলেন, জেলায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকার কারণে রেজিস্টারভুক্ত খামারিরা সময়মতো পশুর জন্য ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না। এ ছাড়া মাঠে খোঁজখবর নিয়ে পশুর চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের দাবি, অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হোক।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, জনবলসংকটের কারণে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির পরিচর্যার পরামর্শ, চিকিৎসা, দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনে নজরদারি এবং যন্ত্রাংশসহ বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জনবল চেয়ে অধিদপ্তরে বারবার চিঠি পাঠানো হচ্ছে। মৌখিকভাবেও জনবল চাওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল পাওয়া যাচ্ছে না।