চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গত দুই দিনে পদ্মা নদীর পানি প্রায় ২০ সেন্টিমিটার কমেছে। প্লাবিত নিম্নাঞ্চল ও অনেক বাড়িঘর থেকে পানি নামতে শুরু করায় বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মায় ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ২১ দশমিক ৫৯ মিটার রেকর্ড করা হয়। গত দুই দিনে নদীর পানি প্রায় ২০ সেন্টিমিটার কমেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সম্প্রতি ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানি এবং ফারাক্কার সবকটি জলকপাট খুলে দেওয়ার পর পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ও নারায়ণপুর এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পানি কমে যাওয়ায় এসব এলাকার অনেক বাড়িঘর থেকে পানি নেমে গেছে। বন্যাকবলিত মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে নিচু এলাকা, রাস্তা ও কৃষিজমিতে এখনো পানি থাকায় দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি। বন্যার পানিতে বিভিন্ন ধরনের ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য এখন পর্যন্ত ৪৪ টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার, খাবার স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতির ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। নদ-নদীর পানি আরও কমলে দ্রুতই বন্যাকবলিত মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মায় ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নদ-নদীর পানি কমার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।