হোম > সারা দেশ > চাঁপাইনবাবগঞ্জ

‘২ লাখ টাকা’ না পেয়ে বিএনপি নেতাকে আ.লীগ বানিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

গোমস্তাপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মো. সাদেক আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্তে গিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি করে। সেই টাকা না পেয়ে ওই বিএনপি নেতাকে কঠিন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। অবশেষে আওয়ামী লীগ বানিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মো. সাদেক আলী (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রানা বলেন, ‘সাদেক আলী বর্তমানে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশকে আরও সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করতে হবে, যাতে কোনো নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।’

বিএনপির এ নেতা জানান, সাদেক আলীর এক ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। কিন্তু সাদেক সব সময়ই বিএনপির রাজনীতি করে এসেছেন।

গ্রেপ্তার সাদেক আলীর বড় ছেলে মো. স্বাধীনের বলেন, সম্প্রতি জমিসংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্তকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ তৈরি হয়। শরিফ নামের এক ব্যক্তি আমার বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে থানার তদন্ত কর্মকর্তা শাকিল তাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর বাবা ও তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁর বাবার সঙ্গে পুলিশের কথা—কাটাকাটি হয়।

স্বাধীনের অভিযোগ, তাঁর বাবার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা। অন্যথায় মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন স্বাধীন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে গোমস্তাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাকিল জানান, জমি-জমা সংক্রান্ত অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি।

টাকা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শাকিল বিষয়টি এড়িয়ে যান। জমি-জমা সংক্রান্ত অভিযোগটি ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না—এ প্রশ্নেরও তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম বলেন, ‘আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিয়মিত মামলার অংশ হিসেবে তদন্ত করেই সাদেক আলীকে সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণের বিষয়টি আদালতেই নির্ধারিত হবে।’

পুলিশের টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘সাদেক আলীর পরিবার এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’