চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিখোঁজ অটোরিকশাচালক মো. রুমনের (২২) সন্ধান ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার পাইলিং মোড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।
এ সময় আটক তিনজনসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান বিক্ষোভকারীরা। এলাকাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে নিখোঁজ রুমনের বাবা-মা, স্ত্রীসহ স্থানীয় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন।
নিখোঁজ রুমন শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের সেলিমাবাদ এলাকার একরামুল হকের ছেলে।
মানববন্ধনে একরামুল হক অভিযোগ করেন, নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে অসীম নামে এক ব্যক্তি রুমনকে ফোন করে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে গোমস্তাপুর এলাকার একটি বাগানে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। গন্তব্যে পৌঁছানোর কিছু আগে অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ অসীম নেবেন এবং রুমনের চোখ বাঁধা থাকবে—এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ওই শর্তে ভাড়া নিতে রাজি হননি রুমন।
পরদিন শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো নিজস্ব অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন রুমন। এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে শিবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পুলিশ জানায়, পরিবারের দেওয়া তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনাটি অপহরণ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় অসীম আলী, উমর ফারুক ও রফিকুল ইসলাম নামে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুমনের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো রুমনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।’
মানববন্ধন শেষে রুমনের সন্ধান ও ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পরে শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. মতিউর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে রুমনকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা এবং ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেন।