চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালে বড় বড় ফাটল, কোথাও বেরিয়ে গেছে ইট, আবার কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। ফলে ঝুঁকির কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পান অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মহবুল আলম বলেন, ‘১৯৯৬ সালে নির্মিত ভবনেই দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—সবাই উদ্বিগ্ন। নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি। আশ্বাস পাওয়া গেলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।’
মহবুল আলম বলেন, চলতি বছর বিদ্যালয়ের সামনে নতুন সড়ক নির্মাণের পর জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির দিনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যায়।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয়টিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। ফলে কখনো একই কক্ষে দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করতে হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, পুরোনো ভবনের প্রায় প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে ছোট-বড় অসংখ্য ফাটল। কোনো কোনো স্থানে ফাটল এতটাই গভীর যে ইট বেরিয়ে এসেছে। ছাদের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে মেঝেতে পড়ে আছে। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে স্যাঁতসেঁতে দাগ। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে ভিজে যায় বেঞ্চ, বই-খাতা ও শিক্ষা উপকরণ। তখন কখনো ত্রিপল টানিয়ে, কখনো বারান্দায় আবার কখনো মেঝেতে বসিয়ে পাঠদান করতে হয়।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া খাতুন বলে, ‘বৃষ্টি হলে আমাদের ক্লাসের ভেতরে পানি পড়ে। দেয়াল থেকে মাঝে মাঝে পলেস্তারা খসে পড়ে। তখন আমরা ভয় পাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে। মাঠ ও প্রবেশপথের জলাবদ্ধতারও স্থায়ী সমাধান চান তাঁরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবনের ঝুঁকির বিষয়টি আমরা অবগত আছি। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব খাত থেকে অর্থ নিয়ে মেরামত ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে ঝুঁকি কমিয়ে শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।’