সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে উপজেলার তারাপাল্লা গ্রামের ইকবাল হোসেনের মেয়ে ইসরাত। কামড়ের স্থান ফুলে কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চোখের পাতা ঝুলে পড়া ও খিঁচুনির মতো বিষক্রিয়ার গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়। এ সময় জরুরি বিভাগেই দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয় শিশুটির শরীরে। ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হয়।
পরে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির রান্নাঘরে যাওয়ার সময় ইসরাতকে সাপে কামড় দেয়। পরিবারের সদস্যরা সময় নষ্ট না করে তাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সোয়াইব হোসেন শিশুটিকে পরীক্ষা করেন। শিশুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত অ্যান্টিভেনম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ শুরু হয়। চিকিৎসাকালে ইসরাতকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫০ শয্যার কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সাপে কাটা রোগীদের অ্যান্টিভেনম দেওয়া হচ্ছে। ইসরাতকে দ্রুত হাসপাতালে আনা ও বিষক্রিয়ার লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। সাপে কাটার পর কোনো ধরনের সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা উচিত।
মো. সোহেল রানা বলেন, স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়ে। উপজেলা পর্যায়ে জরুরি বিভাগে সাপে কাটা রোগীদের অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সক্ষমতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে ভূমিকা রাখছে।