চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তফিরা গ্রামের মো. শহিদুল্লাহ ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সৌদি নাগরিক জাকী আল আশুরকে হত্যা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবার। তবে পরিবারের দাবি, শহিদুল্লাহ নির্দোষ এবং তাঁকে ষড়যন্ত্র করে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ চেয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
জীবিকার তাগিদে ২০০৮ সালে সৌদি আরবে যান মো. শহিদুল্লাহ। প্রবাসে কর্মজীবন শুরুর কয়েক বছর পর তাঁর জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে।
পরিবারের কাছে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারির একটি চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, সৌদি নাগরিক জাকী আল আশুরকে হত্যার অভিযোগে শহিদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। বর্তমানে তিনি দাম্মাম কারাগারে রয়েছেন।
শহিদুল্লাহর পরিবারে রয়েছেন ৭৫ বছর বয়সী মা খুশিদা বেগম, স্ত্রী পেয়ারা বেগম, ছেলে জিহাদ হোসেন (২২) ও মেয়ে ফিয়া আক্তার (১৭)। স্বামী ও বাবার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে নানা সংকটে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
শহিদুল্লাহর স্ত্রী পেয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী যখন কারাগারে যান, তখন ছেলের বয়স মাত্র ৭ বছর। তাঁর গ্রেপ্তারের পর থেকেই সংসারে অভাব-অনটন শুরু হয়। বাধ্য হয়ে অল্প বয়সেই আমার ছেলে পরিবারের দায়িত্ব নিতে কাজে নামে। আমি আমার স্বামীর প্রাণভিক্ষা চাই। তাঁকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’
শহিদুল্লাহর মা খুশিদা বেগম বলেন, ‘ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে আমার চোখ প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। মৃত্যুর আগে একবার ছেলেকে দেখতে চাই। আমার ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন।’
শহিদুল্লাহর ছেলে জিহাদ হোসেন বলেন, ‘১৪ বছর ধরে বাবা কারাগারে। মা অনেক কষ্ট করে সংসার চালিয়েছেন। ছোট বয়সেই আমাকে কাজে নামতে হয়েছে। এখন প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি, আগের মতো কাজও করতে পারি না। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমার বাবাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।’
পরিবারের সদস্যদের দাবি, শহিদুল্লাহ নির্দোষ এবং তাঁকে ষড়যন্ত্র করে মামলায় জড়ানো হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও দাবি করেন, শহিদুল্লাহ সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন এবং সৌদি আরবে অবস্থানকালে একটি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।
শহিদুল্লাহর বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও মানবিক বিবেচনায় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসী। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগও কামনা করেছেন তাঁরা।