চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার মধ্য চরকুমিরা মাঠে পানির অভাবে বোরো মৌসুমে লাগানো ধানের জমিগুলো ফেটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫০ একর জমিতে ধান আবাদকারী কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত জমিতে পানির ব্যবস্থা করা হোক। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, নদীতে পানি কম। কয়েক দিনের মধ্যে নদীতে পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিন ওই মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ আবাদি জমি ফেটে চৌচির হয়ে আছে। আবার অনেক জমির ধান পানি না থাকায় লালচে হয়ে আছে। জমিগুলোতে নির্ধারিত সময়ে পরিচর্যায় সার ও কীটনাশক ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। ওই মাঠে ধান আবাদ করেছেন বহু কৃষক। এর মধ্যে দুলাল মালের ৩৩, শহীদুল্লাহ মালের ৪৮, আরিফ ছৈয়ালের ৪৫, বিল্লাল হোসেন রাজার ৯০, হাবিব ব্যাপারীর ৫০, আবুল খায়ের ব্যাপারীর ৪২, মহসীন ব্যাপারীর ৬০, কাজল হক মালের ২১, আলী আকবর পাটওয়ারীর ১ একর ১০ শতাংশ ও মোস্তফা হাজীর ১ একর ১৫ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ রয়েছে।
দুলাল মাল বলেন, ‘প্রায় দেড় মাস আগে তাদের জমিতে পানি আসে। তখন নদীতে পানি ছিল। এখন ধানগুলো বড় হওয়া এবং পরিচর্যার সময়। ঠিক এই মুহূর্তে পানি না থাকায় আমরা দিশেহারা।’
কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, তিনি ৯০ শতাংশ জমিতে ধান আবাদ করেছেন। পানি না থাকায় তার পুরো ধানের আবাদ ক্ষতির মুখে পড়েছে। খাল ও নদী কোনোটাতে পানি নেই। অনেকে পুকুর থেকে সেচপাম্প দিয়ে পানি দিলেও তা পর্যাপ্ত হচ্ছে না। এখন পুরো মাঠের জমিগুলো ফেটে আছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি না দিলে পুরো মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে এবং কৃষকদের পথে বসতে হবে।
ওই মাঠের সেচ ম্যানেজার বাচ্চু ছৈয়াল বলেন, ‘নদী ও খালে পানি নেই। যে কারণে আমি কৃষকদের পানি দিতে পারি না। কৃষকদের চাপে আমি খুবই বিপদের মধ্যে আছি।’
এদিকে একই উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কড়ৈতলি মাঠে প্রথম দফায় পানি দেওয়া হলেও এখন পানির সংকট। সেখানেও ধানের জমিগুলো ফেটে চৌচির হচ্ছে। এখানকার শতাধিক কৃষক পানির অভাবে পড়েছেন বিপাকে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. রহুল আমিন বলেন, ‘বাগাদি পাম্প হাউসের চারটি সেচ মেশিন চালু আছে। তবে রিভার সাইডে এখন পানি কিছুটা কম। পানির অভাব দেখা দিলে বিষয়টি আমাদের সিভিল ডিপার্টমেন্ট দেখবে।’
চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, ‘খোঁজখবর নিয়েছি, নদীতে পানি কম থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।’