সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বলে দাবি করছেন স্বজনেরা। তরুণের বাবা বলে দাবি করা আবদুল বাছির জানান, ছেলে সৌদি আরবে কারাগারে ছিল এটি তিনি জানতেন। তবে কী অপরাধে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সেটি তাঁর জানা নেই। আর যে তরুণীর নাম সোশ্যাল মিডিয়াতে এসে তাঁকেও তিনি চেনেন না।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তরুণের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছিরের ছেলে।
আবদুল বাছির জানান, ছেলেকে অল্প বয়সে পরিবারের হাল ধরতে ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। তিনি সেখানে বিয়ে করেছিলেন কি না তা তিনি জানেন না। ছেলে এ বিষয়ে কখনো তাঁকে কিছু বলেননি।
আবদুল বাছির জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিলেন ছেলে। এরপর টানা তিন বছর তিন মাস কারাগারে। তবে কী কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা এখনো জানেন না তিনি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পেয়ে ওই তরুণের ফুফু গত বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলেও জানান তিনি।
আবদুল বাছির আরও বলেন, ‘সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। ঋণদাতারাও আমাকে চাপ দিচ্ছে। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর বিচার চাই।’
স্বজনেরা জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি দেন ২২ বছর বয়সী তরুণ। সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হন।
সৌদি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মক্কা নগরীর একটি মসজিদে এক এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ।
আবদুল বাছিরের স্ত্রী রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের না জানিয়ে গোপনে ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে, একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। এখন আমি শুধু আমার সন্তানের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবু সাঈদও জানান, ওই তরুণের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। এমনটিই তাঁরা জানতে পেরেছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।