হোম > সারা দেশ > বগুড়া

৭ বছরে চালু হয়নি বার্ন ইউনিট

গনেশ দাস, বগুড়া 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় চালু করা সম্ভব হয়নি বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের ১০ শয্যার বার্ন ইউনিট। দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে শয্যাগুলো। সম্প্রতি তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা

বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ১০ শয্যার বার্ন ইউনিট। এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৯ সালের অক্টোবরে। সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এই ইউনিট চালু হয়নি। নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। এমনকি হাসপাতালের অর্গানোগ্রামেও বার্ন ইউনিটের অস্তিত্ব নেই। এরই মধ্যে ইউনিটটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রূপান্তরের নির্দেশ দেওয়া হলেও সেই উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে বগুড়ায় আগুনে পোড়া প্রায় ৩৮৯ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৮ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠাতে হয়েছে। যেসব রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, তারা যেমন দুর্ভোগে পড়েছে; তেমনি যারা বগুড়ায় চিকিৎসা নিয়েছে, দুর্ভোগে পড়েছে তারাও।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে বার্ন ইউনিট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ শয্যার ইউনিটটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৯ সালের অক্টোবরে। পরে গণপূর্ত বিভাগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অবকাঠামোটি হস্তান্তর করে। এরপর অস্ত্রোপচার কক্ষ ও রোগী পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণের পর প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ও সেবা চালুর কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় রোগীদের কোনো কাজে আসেনি এই ইউনিট।

সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট বগুড়া সফরে এসে বার্ন ইউনিটটি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। পরিদর্শনের পর সেখানে বার্ন ইউনিট চালুর পরিবর্তে আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেই নির্দেশও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

এ সিদ্ধান্ত ঘিরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা ও হৃদ্‌রোগীদের বিশেষায়িত সেবার প্রয়োজন থাকলেও আগে নির্মিত বার্ন ইউনিটের মূল উদ্দেশ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা গেলে অবকাঠামোটি বার্ন ইউনিট হিসেবেই চালু করা সম্ভব কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম বলেন, বার্ন ইউনিট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘বার্ন ইউনিট পরিচালনা করতে হলে প্লাস্টিক সার্জারির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালের অর্গানোগ্রামেই এ ধরনের বিশেষজ্ঞ পদের ব্যবস্থা নেই।’ তাঁর মতে, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট চালু করা গেলে আগুনে পোড়া রোগীরা ভালো চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ নিয়ে কথা হয় সুশাসনের জন্য প্রচার অভিযান (সুপ্র) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কে জি এম ফারুকের সঙ্গে। তিনি বলেন, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট চালু করা হোক। বগুড়া থেকে ঢাকায় রোগী স্থানান্তরে সময়, অর্থ ও পরিবহনসংক্রান্ত নানা সমস্যা তৈরি হয়। গুরুতর দগ্ধ রোগীর ক্ষেত্রে এই বিলম্ব চিকিৎসার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তিনি বলেন, বগুড়ায় বিশেষায়িত বার্ন চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, জয়পুরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে বার্ন ইউনিট নামে কোনো ইউনিট নেই। আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট চালুর চিন্তাভাবনা চলছে।

বার্ন ইউনিট পরিচালনা করতে হলে প্লাস্টিক সার্জারির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালের অর্গানোগ্রামেই এ ধরনের বিশেষজ্ঞ পদের ব্যবস্থা নেই।

ডা. মজিদুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক, মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল