বগুড়ার ধুনটে বিরোধপূর্ণ জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, মসজিদ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে মামলা দুটি করা হয়।
একটি মামলায় জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হকসহ ১৯ জনকে আসামি করেছেন। অন্য মামলায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে বিরোধপূর্ণ জায়গায় নতুন মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে আবুল কালাম ও মোজাম্মেল হকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক লোকজন নিয়ে ওই মসজিদে নামাজ পড়তে যান। এ সময় আবুল কালাম, জাহিদুল ইসলামসহ তাঁদের লোকজন মসজিদে প্রবেশ করে ঘর ভেঙে জায়গাটি খালি করে দিতে বলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের নারী-পুরুষসহ ১০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পাঁচজনকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে আবুল কালাম ও জাহিদুলের সমর্থকেরা মসজিদের টিনের বেড়া, আসবাবপত্র ও মাইক ভাঙচুরসহ লুটপাট চালায়।
খবর পেয়ে ধুনট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে শনিবার সকালে মসজিদ নির্মাণের পক্ষের লোকজন আবুল কালাম ও তাঁর ভাতিজা জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, মসজিদের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। একাধিকবার দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।