হোম > সারা দেশ > বগুড়া

বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদী: ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেই

মাসুদ রানা, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি

যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে বগুড়ার ধুনট উপজেলা। ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি গ্রাম থেকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা

বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনরোধে নেওয়া হচ্ছে না কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা। ফলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যমুনার ভাঙন। গত কয়েক দিনের ভাঙনে বহু মানুষের আবাদি জমি, বসতভিটা বিলীন হয়েছে। যমুনায় সব হারিয়ে এখন অথৈ সাগরে পড়েছেন নদীপারের বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার পূর্ব পাশে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে যমুনা নদী। নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বৈশাখী, রাঁধানগর, বথুয়ারভিটা, নিউ সারিয়াকান্দি, আটারচর পুকুরিয়া, ভূতবাড়ি, কৈয়াগাড়ি, বানিয়াজান শহড়াবাড়িসহ প্রায় ১০টি গ্রাম ধুনট উপজেলার মানচিত্র থেকে অনেক আগেই বিলীন হয়ে গেছে।

এসব গ্রামের মানুষ দফায় দফায় ভাঙনের শিকার হয়ে জমিজমা, বসতভিটা, ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে। এ বছর আবারও তাঁরা নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছেন। এখন তাঁরা যাবেন কোথায়? কে দেবে তাঁদের আশ্রয়? তাই তাঁরা ভাঙনরোধে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দফায় দফায় পানির তীব্র স্রোতে যমুনার স্পার দুটির সামনের অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

জানা যায়, যমুনার ভয়াবহ ভাঙনরোধে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ২০০৩ সালে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান নামের দুটি গ্রামে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীতে আড়াআড়িভাবে ১ হাজার ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি স্পার নির্মাণ করা হয়েছে। একটি স্পার থেকে অন্য স্পারের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার।

এই মাটির তৈরি স্পার রক্ষায় নদীর ভেতরে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। কিন্তু তাতে স্পারে ভাঙনরোধ করা সম্ভব হয়নি। যমুনার পানি কমে যাওয়ায় স্রোতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। ফলে দুই স্পারের ভেতরে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে শতাধিক বিঘা ফসলি জমি এবং ৩টি পরিবারের বসতভিটা ভেঙে যমুনায় বিলীন হয়েছে। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছাকাছি এসেছে ভাঙন। যেকোনো সময় বিলীন হতে পারে বাঁধ।

স্থানীয়দের দাবি, পানির প্রবল স্রোতে যমুনা নদীর শহড়াবাড়ি স্পার ৩ দফা ভেঙে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ ছাড়া শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের ভেতর শতাধিক বিঘা আবাদি জমি ও হজরত আলী, জুয়েল রানা ও রঞ্জু মিয়া নামের ৩ ব্যক্তির ভিটাবাড়ি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই ৩ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বাঁধের পশ্চিম পাশে। তাদের অভিযোগ, এর আগে তিন দফায় বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এখন আর ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে তারা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হোসেন বলেন, স্পারে ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে বাঁধ ভেঙে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাঁধে আশ্রিত হাজার হাজার পরিবারের বিপাকে পড়বে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আসেননি এবং কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

শহড়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা হজরত আলী (৬৫) জানান, বাঁধের পূর্ব পাশে আধা পাকা বাড়িঘর ছিল। কয়েক দিন আগে তা যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। এখন বাঁধের পশ্চিম পাশে দোচালা ঘর তুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনরোধে ৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।