হোম > সারা দেশ > বগুড়া

পুলিশের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ

গনেশ দাস, বগুড়া 

বগুড়ায় যুবদলের কর্মী পরিচয়ে বিরোধী নেতা-কর্মীদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে হারুনার রশিদ হারুন (৪২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, গত ২৮ সেপ্টেম্বর টাকা না দেওয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে পুলিশে ধরিয়ে দেন তিনি। তবে এ ঘটনার সঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ি গ্রামে। অভিযুক্ত হারুন ওই গ্রামের বাসিন্দা মৃত কামরুজ্জামান ঘটুর ছেলে।

স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের দাবি, হারুন কখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। সম্প্রতি তিনি নিজে অফিস বানিয়ে দলীয় নেতাদের ছবি টানিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ বলেন, ‘হারুন কোনো দিনই যুবদল করেনি। দলের নাম ভাঙিয়ে সে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, আত্মগোপনে থাকা আ. লীগের নেতা-কর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করে হারুন তাঁদের ফোন দিচ্ছেন। পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে আসছেন।

ঘোলাগাড়ি গাজিয়াপাড়া গ্রামের ৭০ বছরের বেশি বয়সী দিনমজুর আবুল কাশেম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে হারুন ফোন করে জানায়, আ. লীগের কমিটিতে আমার নাম আছে। যেকোনো সময় পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে পারে। সে আমার কাছে ২ হাজার টাকা চায়।’

ঘোলাগাড়ি হেমতাপাড়া গ্রামের পল্লিচিকিৎসক আব্দুর রহিম ফারুক ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আ. লীগের সম্পাদক। তাঁর স্ত্রী মনিকা বেগম বলেন, হারুন তাঁর স্বামীর কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে পুলিশ বাড়িতে এসে তাঁর স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। একই রাতে পুলিশ আরেক পল্লিচিকিৎসক ও ওয়ার্ড আ. লীগের কোষাধ্যক্ষ ফজলার রহমান মিলুকেও গ্রেপ্তার করে।

পরদিন সকালে থানায় গেলে মামলা ‘নরমাল’ করার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন মনিকা বেগম। পরে জানতে পারেন, ২০২৪ সালের একটি মামলায় তাঁর স্বামী ও ফজলার রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে হারুনার রশিদ হারুন বলেন, ‘পুলিশ আমাকে আ. লীগের নেতা-কর্মীদের ধরে দিতে বলেছে।’ টাকা দাবির অভিযোগ স্বীকার করলেও তাঁর দাবি, কেউ তাঁকে টাকা দিয়েছেন এমন প্রমাণ নেই।

এরুলিয়া ইউনিয়ন বিট পুলিশের দায়িত্বে থাকা সদর থানার এসআই আবু সালেহ মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, আ. লীগের নেতাদের গ্রেপ্তারের চাপ থাকায় ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, হারুন আ. লীগের লোকজনকে ফোন করে টাকা দাবি করছে, এমন অডিও রেকর্ডিং তাঁরা পেয়েছেন। এ বিষয়ে হারুনকে সতর্কও করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, ওই দুই আ. লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের নামে মামলা না থাকলেও অন্য একটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। থানায় ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।