হোম > সারা দেশ > ভোলা

ভোলায় মেঘনার পাড় ধসে ৫ বন্ধু নদীতে, খোঁজ মেলেনি বিজিবি সদস্যসহ দুই যুবকের

ভোলা প্রতিনিধি

মেঘনায় নিখোঁজ দুই যুবক। ছবি: সংগৃহীত

ভোলা সদর উপজেলায় মেঘনা নদীর পাড় ধসে পাঁচ বন্ধু নদীতে পড়ে যান। এ সময় তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বিজিবি সদস্যসহ দুই যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পরও তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ দুজন হলেন—ভোলা শহরের ভদ্রপাড়া এলাকার মো. ইব্রাহিমের ছেলে বিজিবি সদস্য মো. আমজাদ (২৬) এবং সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বাবুলের ছেলে মো. রাকিব (১৮)।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলাখাল মাছঘাটসংলগ্ন বালুরমাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি ‘গরিবের দুবাই’ নামে পরিচিত।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা পর্যন্ত নিখোঁজ দুই যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার বিকেল থেকে পাঁচ বন্ধু মেঘনা নদীর পাড়ে বালুভর্তি জিওব্যাগের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ জিওব্যাগসহ নদীর পাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়লে তাঁরা সবাই পানিতে পড়ে যান। এ সময় তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আমজাদ ও রাকিব স্রোতের টানে তলিয়ে যান।

নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মো. আমজাদের স্বজনেরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন আমজাদ। আগামী সপ্তাহে তাঁর কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে ঘুরতে যান তিনি। সন্ধ্যার দিকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে এখনো তাঁর সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ রাকিবের স্বজনেরা জানান, বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে আড্ডা দিতে গিয়ে পাড় ধসে রাকিব নদীতে পড়ে যান। পাঁচজনের মধ্যে তিনজন উদ্ধার হলেও রাকিবসহ দুজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়ে রাত ১০টার পর কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুক্ষণ উদ্ধার অভিযান চালান। পরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

শিবপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মো. মনজুর আলম বলেন, সন্ধ্যার পর পাঁচ বন্ধু নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ পাড় ধসে তাঁরা সবাই নদীতে পড়ে যান। তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও তীব্র স্রোতে দুজন তলিয়ে যান। খবর পেয়ে তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানান, খবর পেয়ে বুধবার রাত ১টার দিকে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনা ঘটার পরপরই কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়।

তাঁরা জানান, ভোলায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল রাতে কিছু সময় উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে ভোরের দিকে আবারও অভিযান শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সঙ্গে কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল মিলে নদীতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। তবে এখনো নিখোঁজ দুই যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।