ভোলার চরফ্যাশনে হেরিং বোন বন্ড (ইটের সলিং) সড়কের ইট তুলে কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কারের অভিযোগ উঠেছে এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। সড়কের ইট তুলে নেওয়ায় বর্তমানে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসা চৌমাথা থেকে দক্ষিণে ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি হেরিং বোন বন্ড নির্মাণের জন্য এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে মেসার্স সূচনা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে।
এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর প্রকল্পের আওতায় ৬০০ ফুট ইটের সলিং সংস্কারের জন্য ৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৫৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জামাল উদ্দিন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টিআর প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ওই হেরিং বোন বন্ড সড়কের ইট তুলে ফেলা হয়েছে। পরে ভেকু দিয়ে সড়কে কাদা-মাটি ফেলা হয়। এতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগে এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জামাল উদ্দিন সড়কটি ভালোভাবে ইটের সলিং করার কথা বলে আগের ইটগুলো তুলে নেন। পরে ভেকু দিয়ে সড়কে কাদা-মাটি ফেলা হয়। তাঁদের দাবি, আগের হেরিং বোন বন্ড সড়কটিই ভালো ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা জাফর বলেন, ‘এওয়াজপুর ইউনিয়নের সচিব জামাল উদ্দিন এই সড়কের কাজ করেছেন। সেই কাজের দায়িত্ব আমি পালন করেছি। তিনি পূর্বের ইটের সলিং তুলে কাদা-মাটি ফেলেছেন।’
এওয়াজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, ‘২০২০-২১ অর্থবছরে এই রাস্তায় ইটের সলিং করা হয়। আমরা এলাকাবাসী ইটের সলিংয়ের ওপর দিয়ে চলাচল করেছি। পূর্বের ৬৬০ ফুট ইটের সলিং তুলে মাটি ফেলা হয়েছে। এখন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। তাই আমরা পূর্বের সলিং ফিরে পেতে চাই।’
একই অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা আবি আবদুল্লাহ ও জসিম মোল্লা। তাঁরা বলেন, ‘হেরিং বোন বন্ড নির্মাণের পর মানুষ সুন্দরভাবে চলাচল করতে পারত। ইটগুলো তুলে নেওয়ায় এখন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইটের সলিং থাকার সময় এই রাস্তায় গাড়িও চলাচল করত। এখন হাঁটুসমান কাদামাটির কারণে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আগের সলিং নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইটগুলো তুলে নিয়ে মাটি ফেলেছি।’
ইট তুলে কাদা-মাটি দিয়ে সড়ক সংস্কার করা যায় কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন অবগত আছে।’
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে ইউপি সচিব আমার বিষয়ে কিছু বলে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’