হোম > সারা দেশ > ভোলা

ভোলা হাসপাতাল: শয্যার সংকট, মেঝেতে মশারি ছাড়া ডেঙ্গু রোগী

শিমুল চৌধুরী, ভোলা 

ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে শয্যাসংকটের কারণে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে রোগীরা। রোগীর জন্য টাঙানো হয়নি মশারি। ছবিটি রোববারের। আজকের পত্রিকা

ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। হাসপাতালটির ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২০টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে দ্বিগুণের বেশি। ফলে বাধ্য হয়ে বাকি রোগীদের হাসপাতালের ফাঁকা স্থানে বিছানা পেতে মেঝেতে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। এমনকি এসব রোগীর মশারি ব্যবহারও করতে দেখা যায়নি। এতে আক্রান্ত রোগীদের মাধ্যমে এই রোগের আরও বিস্তার ঘটার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জেলায় ডেঙ্গু রোগী আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। গত জুন থেকে প্রতি মাসেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালটিতে ভর্তি হচ্ছে। অনেকে বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। তবে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক রোগী সচেতনতার অভাবে বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছে।

হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, আজ রোববার তিনজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। গত সোমবার থেকে আজ রোববার পর্যন্ত এক সপ্তাহে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৩৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।

ডেঙ্গু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সুমা রানী জানান, প্রায় প্রতিদিন চার থেকে পাঁচজন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মাত্র ২০টি শয্যা রয়েছে। অথচ এই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে এর দ্বিগুণ। শয্যার সংকটের কারণে বাকি রোগীদের বাধ্য হয়েই মেঝেতে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।

আজ সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ডেঙ্গু রোগী মেঝেতে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। তাদের পাশে রয়েছে স্বজনেরা। তবে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি টাঙানো হয়নি।

ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আরাফাতুর রহমান বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ওয়ার্ডে শয্যার সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। যেসব ডেঙ্গু রোগী মেঝেতে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে, তাদের মশারি টাঙানোর কোনো ব্যবস্থা নেই।

আরাফাতুর রহমান আরও বলেন, হাসপাতাল ছাড়া বাইরেও বহু ডেঙ্গু রোগী আছে। আমি নিজেও প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিজস্ব চেম্বারে ২-৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাচ্ছি। অসচেতনতার কারণে ভোলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

এ বিষয়ে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু মূলত মশাবাহিত একটি রোগ। বর্ষার সময়ে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে এডিস মশার জন্ম হয়। সেখান থেকেই ডেঙ্গু রোগের বিস্তার ঘটছে।

প্রতি মাসেই রোগী বাড়ছে জানিয়ে তৈয়বুর রহমান বলেন, ভোলায় ডেঙ্গু রোগী আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। গত জুন মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যা ছিল, তার চেয়ে জুলাইয়ে একটু বেড়েছে। আবার জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে এবং আগস্টের চেয়েও আবার সেপ্টেম্বরে আরও বেড়েছে। আগামী অক্টোবরেও বাড়বে। এরপর হয়তো নভেম্বরে বৃষ্টি কমে গেলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও কমে আসবে। এ জন্য আগামী দুই মাস সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।