ভোলার চরফ্যাশন ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে জনবল ঘাটতি এবং রোগনির্ণয়ের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীরা। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে বাড়তি অর্থ ও সময় ব্যয় করে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
উপজেলায় প্রায় ৬ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অবকাঠামোগতভাবে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না থাকায় এখনো পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি।
হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৬৬ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ২১ জন। এর মধ্যে ১০ জন কনসালটেন্টের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। ৫২ জন চিকিৎসা কর্মকর্তার বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৭ জন। ৩০ জন নার্সের বিপরীতে রয়েছেন ২৮ জন। ১৬ জন সেকমো পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। পাঁচজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিপরীতে রয়েছেন দুজন। তিনজন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টের বিপরীতে কর্মরত আছেন দুজন। এ ছাড়া তিনজন ফার্মাসিস্টের পদ থাকলেও বর্তমানে কোনো ফার্মাসিস্ট নেই।
হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বড় ধরনের সংকট রয়েছে। শিশু, গাইনি ও হৃদ্রোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে হচ্ছে। এতে রোগীদের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে।
হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকলেও সেটি পরিচালনার জন্য রেডিওগ্রাফার নেই। ফলে দুর্ঘটনায় আহতসহ বিভিন্ন রোগীর এক্স-রে করাতে অনেক সময় হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে রোগীদের বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
হাসপাতালটিতে নেই আধুনিক মানের পূর্ণাঙ্গ ল্যাব সুবিধা। প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি রক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সিবিসি করার জন্যও প্রয়োজনীয় মেশিন নেই। ফলে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে।
রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা জানান, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে পরীক্ষা করাতে হয়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাকলুকুর রহমান বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন রয়েছে, কিন্তু রেডিওগ্রাফার না থাকায় পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল ইসলাম সুমন বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।