ভোলায় স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্বামী মো. বশিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে ভোলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ এ রায় দেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. হাবিবুর রহমান বাচ্চু খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সাজাপ্রাপ্ত মো. বশির ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মুসাকান্দি গ্রামের আ. রশিদের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আসামি বশির তার স্ত্রী বিলকিসকে ২০০৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বসতঘরে হত্যা করেন। হত্যাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরদেহে আগুন দেন। এতে বিলকিসের মুখ, গলা, ঘাড়, বক্ষ এবং পাঁজরসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ছাড়া স্বামী বশির তার স্ত্রী বিলকিসের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর দুই সন্তান খাদিজা খাতুন ও মো. ইমারনকে বাড়িতে ফেলে পালিয়ে গিয়ে প্রায় ২১ বছর পলাতক ছিলেন। এরপর ২০২৫ সালে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয় বিধায় আসামিকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেন।
ভোলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. হাবিবুর রহমান বাচ্চু আজকের পত্রিকাকে বলেন, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে এ মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এ রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। অনতিবিলম্বে ফাঁসির আদেশ কার্যকরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে ভোলা কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো. নাসীর উদ্দীন বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. বশিরকে কোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রায় ঘোষণা করার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।