ঝালকাঠি পৌর ভূমি অফিসে ছুটির রাতে তহশিলদারের অবস্থান নিয়ে আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. আবুল বাসারকে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
৩ আগস্ট আজকের পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘ছুটির রাতে খোলা ভূমি অফিস, ভেতরে তহশিলদার’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে ঝালকাঠি পৌর ভূমি অফিসে ছুটির রাতে কার্যক্রম পরিচালনা, তহশিলদারের উপস্থিতি এবং কয়েকজন সেবাগ্রহীতার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
এর এক দিন পর, ৪ আগস্ট জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সই করা এক অফিস আদেশে মো. আবুল বাসারকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে একই উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সমপদে বদলি করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জেলার রাজস্ব প্রশাসনের দৈনন্দিন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে কয়েকজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী ও উপসহকারী কর্মকর্তাকে সমপদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
বদলি আদেশ অনুযায়ী, মো. আবুল বাসারের স্থলে নবগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছ হোসেনকে ঝালকাঠি সদর পৌর ভূমি অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। একই আদেশে পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোছা. শামসুন নাহারকে পোনাবালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছে।
এর আগে মো. আবুল বাসার পোনাবালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঝালকাঠি সদর পৌর ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছিলেন।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের ৬ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ওই দিন অপরাহ্ণে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে।
বদলির বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।
শোকজের বিষয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের পর তহশিলদার মো. আবুল বাসারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দুই কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’