বরিশালের বাকেরগঞ্জে বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। বিস্ফোরিত বস্তুটি বোমা নাকি অন্য কোনো বিস্ফোরক—তা নিশ্চিত হতে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত করছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। তবে পুলিশের দাবি, এটি স্থানীয়ভাবে তৈরি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। বিস্ফোরকটি সক্রিয় করতে বিস্ফোরণ-ফাঁদ (বুবি ট্র্যাপ) ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বিস্ফোরণে দগ্ধ তিনজন ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে রহস্যজনক ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫), মেয়ে ইতি আক্তার (১৮) এবং নাতি মো. ফাহিম (১৫) দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
দগ্ধ ইতি আক্তার জানান, তাঁর বোনের ছেলে ফাহিমের পায়ে ব্যথা থাকায় সোমবার সকালে তাকে ব্যায়াম করানোর জন্য বাড়ির বাইরে নিয়ে যান। এ সময় ঘরের পাশে একটি রশির সঙ্গে তিনটি চিপসের প্যাকেট ঝুলতে দেখেন। বিষয়টি তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। চিপসের ঠিক নিচে একটি নতুন ব্যাগও দেখতে পান, সেটিও রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। কৌতূহলবশত বিষয়টি দেখতে গিয়ে একটি ইটের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তাঁর হাত রশিতে স্পর্শ করতেই মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে।
জেলা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বরিশাল অঞ্চলে এ ধরনের আইইডি বিস্ফোরণ বা উদ্ধার হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মো. মাসুম বিল্লাহ আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় মঙ্গলবার আহতদের এক স্বজন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। সোমবার রাতেই বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত ও আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি র্যাব, পিবিআই ও সিআইডিও পৃথকভাবে তদন্ত করছে।
মাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি স্থানীয়ভাবে তৈরি বোমাসদৃশ একটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই বিস্ফোরকটির প্রকৃতি সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।’