হোম > সারা দেশ > বরিশাল

বরিশালে মাদ্রাসার সভাপতি নিয়ে চরমোনাই ও বিএনপিতে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

জামিয়া আরাবিয়া খাজা মঈনউদ্দীন মাদরাসা। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল নগরীর বাজার রোডের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া খাজা মঈনউদ্দীন মাদ্রাসার সভাপতির পদ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে ঘিরে চরমোনাই পীরের অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন জোর করে সভাপতির পদ নিতে চাচ্ছেন এবং কয়েক দফা মাদ্রাসায় গিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। তবে চাঁন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

খাজা মঈনউদ্দীন মাদ্রাসার মুহতামিম ও মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম জানান, আজ রোববার বিকেলে দলবল নিয়ে মাদ্রাসার ভেতরে মহড়া দেন এবায়েদুল হক চাঁন। সেখানে আছরের নামাজ আদায় করেন। মহড়া দেওয়ায় মাদ্রাসার কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

আব্দুল হালিমের অভিযোগ, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী একজন আলেম এসব প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হবেন। চাঁন নিয়মবহির্ভূতভাবে জোরজবরদস্তি সভাপতি হতে চাচ্ছেন। ২০১০ সালে মুফতি ফয়জুল করীমকে সভাপতি করে ২১ সদস্যের কমিটি মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁন সভাপতি হতে তৎপরতা শুরু করেছেন। তিনি বাজার রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। অথচ মাদ্রাসার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন।

তবে বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চাঁন বলেন, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ আমলে পুলিশ দিয়ে তাঁকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। গত শুক্রবার তিনি মাদ্রাসায় জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। মুহতামিম আব্দুল হালিম জুমার বয়ানে সম্প্রতি সরকারের করা সম্পত্তি বণ্টন আইন নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তখন তিনি মুহতামিমকে সতর্ক করে বলেছেন—মাদ্রাসার মধ্যে রাজনীতি করা যাবে না। মাদ্রাসার সার্বিক বিষয় নিয়ে সভা করার তাগিদ দিতে আজ মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম।

সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা নেই জানিয়ে চাঁন দাবি করেন, তিনি সভাপতি থাকাকালীন মাদ্রাসা তহবিলে ৭০ লাখ টাকা রেখে এসেছিলেন। তাঁকে উৎখাত করার জন্যই নতুন গঠনতন্ত্র করা হয়েছে।

জানতে চাইলে মাদ্রাসার সভাপতি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ফয়জুল করীম বলেন, ‘দেশে সংবিধান আছে, পদ্ধতি আছে। এর বাইরে কেউ মাদ্রাসায় হস্তক্ষেপ করতে চাইলে প্রশ্ন দেখা দেবে। এখন একজন ব্যক্তি জোর করে সভাপতি হতে চান। হঠাৎ করে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে মাদ্রাসা দখল করবে, এটা ঠিক নয়। আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পুলিশ কমিশনারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

এ ব্যাপারে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘মাদ্রাসায় এক ধরনের অস্থিরতা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি।’