হোম > সারা দেশ > বরিশাল

৫ দিনের ব্যবধানে স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পরিবর্তন

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 

গাছুয়া আবদুল কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের মুলাদী উপজেলার গাছুয়া আবদুল কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের পাঁচ দিনের মাথায় সভাপতি পরিবর্তন করে নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়েছে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। আগের কমিটি বাতিল বা সভাপতি পরিবর্তনের বিষয়ে প্রথম আদেশে কোনো কারণ উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের হিতৈষীদের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গাছুয়া আবদুল কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চার সদস্যের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে মো. মামুন হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়। কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত।

এর পাঁচ দিন পর গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা বোর্ড থেকে আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে আগের সভাপতি মো. মামুন হোসেনকে বাদ দিয়ে সায়েস্তা ইয়াসমিনকে নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে কমিটির অন্য তিন সদস্য—শিক্ষক প্রতিনিধি মো. এমরান হোসেন, অভিভাবক প্রতিনিধি মো. শফিকুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব পদাধিকারবলে প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দীনকে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ-সংক্রান্ত প্রবিধান অনুযায়ী, কোনো কমিটি বা সভাপতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড বা গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধিসম্মত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রক্রিয়া ছাড়াই সভাপতি পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় অভিভাবক জসিম উদ্দিন ব্যাপারী বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডের মতো একটি দায়িত্বশীল সংস্থা থেকে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে অনুমোদিত কমিটির সভাপতি পরিবর্তন করা রহস্যজনক। এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অ্যাডহক কমিটির সদস্যসচিব মো. জসিম উদ্দীন বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয় থেকে তিন সদস্যের প্যানেল তৈরি করে কমিটি গঠনের আবেদন করা হয়েছিল। বোর্ড প্রথমে ৩ সেপ্টেম্বর মো. মামুন হোসেনকে এবং পরে ৮ সেপ্টেম্বর সংশোধন করে সায়েস্তা ইয়াসমিনকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা ছাড়া বিদ্যালয়ের আর কোনো এখতিয়ার নেই।’

সভাপতি পরিবর্তনের বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশক্রমে বিদ্যালয় পরিদর্শন শাখা থেকে কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরিপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) ডিও লেটারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। গাছুয়া আবদুল কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে সায়েস্তা ইয়াসমিনকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য স্থানীয় এমপি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। প্রথমে ওই ডিও লেটারটি বোর্ডের নজরে আসেনি। পরে বিষয়টি নজরে এলে ৮ সেপ্টেম্বর সভাপতির নাম সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, আগের কমিটির সভাপতিকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে একটি পত্র বিদ্যালয়ের ফাইলে দেওয়া হয়েছে। এক-দুই দিনের মধ্যে বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো হবে।