অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করেছিলেন। পদোন্নতির দাবিতে গত এপ্রিলে বেশ কিছুদিন শিক্ষাকার্যক্রম অচল করে দেন ওই শিক্ষকেরা। অবশেষে সেই ২৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ২৩ জন অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেলেন।
আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার-স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে ওই শিক্ষকেরা যোগদান করেছেন। তবে রহস্যজনক কারণে একজন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে দিয়েছে ববি প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র সন্ধ্যায় আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষকরা হলেন কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক ড. হাফিজ আশরাফুল হক, ইতিহাস বিভাগের ড. আবদুল বাতেন চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. তারেক মাহমুদ আবির, রসায়ন বিভাগের ড. হালিমা বেগম, ড. মো. নাজমুল কায়েস, ড. মাসুদ পারভেজ, ড. গাজী জহিরুল ইসলাম, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ড. প্রবীর কুমার ভৌমিক, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ড. জামাল উদ্দিন, গণিত বিভাগের ড. শাখাওয়াত হোসেন, বিজন কৃষ্ণ শাহা, ড. হেনা রানী বিশ্বাস, ড. শফিউল আলম, কম্পিউটার সায়েন্সের ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল, লোকপ্রশাসন বিভাগের ড. ইশরাত জাহান লিজা, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যার ড. ধীমান কুমার রায়, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ড. সুব্রত কুমার দাস, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ড. শাখাওয়াত হোসেন, ড. আবদুল্লাহ আল মাসুদ, ড. তাজিজুর রহমান, ড. সোহেল চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. সাদিকুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের আলমগীর মোল্লা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ২৪ জন শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়টি উত্থাপিত হয়। ওই সভায় ২৩ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। কিন্তু একমাত্র মার্কেটিং বিভাগের ড. আবদুল কাইয়ুমের পদোন্নতির বিষয়ে সিন্ডিকেট অধিকতর খতিয়ে দেখার সুপারিশ করেছে বলে সিন্ডিকেটের অন্তত ২ জন সদস্য জানিয়েছেন।
পদোন্নতি আটকে যাওয়া শিক্ষক হলেন ববির মার্কেটিং বিভাগের ড. আবদুল কাইয়ুম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক আন্দোলনের প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে ড. কাইয়ুম এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি।
ববির সিন্ডিকেটের দায়িত্বশীল একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এবারের সভায় শিক্ষকদের পদোন্নতির পাশাপাশি ২৪-এর জুলাই আন্দোলন নিয়ে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করা হয়। ওই কমিশন নানা বিষয় খতিয়ে দেখা শুরু করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়টি নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে লুকোচুরি চলছিল। এমনকি শিক্ষকেরাও মুখ খুলতে চাননি। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়া কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক ড. হাফিজ আশরাফুল হক ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রমোটেড টু প্রফেসর’। এরপরই ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। যদিও ড. হাফিজকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছিরকে এ বিষয়ে জানতে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপেও তিনি সাড়া দেননি।